ঢাকা শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮

ডাকঘরের মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছে যাবে ই-কমার্স

হিটলার এ. হালিম | প্রকাশিত: ৬ মার্চ ২০২১ ০১:১৪; আপডেট: ১৯ জুন ২০২১ ০৯:১৪

 
 
দেশে ডাকঘরের সংখ্যা ৯ হাজার ৫০০টি এবং ডাক বিভাগে লোকবল রয়েছে ৪০ হাজারের বেশি। আছে ১৪টি মেইল প্রসেসিং সেন্টার, দেশব্যাপী নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা, আর ৮ হাজার পোস্ট ই-সেন্টার।  এসব ডাকঘরের প্রতিটিতে ই-কমার্স বুথ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এই উদ্যোগ সফল হলে ডাকঘরগুলোকে ই-কমার্সের ডেলিভারি পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় ই-কমার্স সেবা পৌঁছানো সম্ভব হবে।  আর এমনই একটি প্রস্তাবনা ডাকঘরকে দিয়েছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)। প্রস্তাবনার বড় অংশের সঙ্গে  একমত পোষণ করে সংশ্লিষ্টরা দেশব্যাপী ই-কমার্সকে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।

এর আগেও ই-কমার্সের সম্প্রসারণে যৌথভাবে কাজ করেছে ডাকঘর (ডাক অধিদফতর) ও ই-ক্যাব।  তবে ডাক বিভাগের ই-কমার্স শুরুর সময় থেকে একটি ই-কমার্স সেল গঠন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটির যৌথ উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে— ৭৫০টি পোস্ট ই-সেন্টারের প্রায় দেড় হাজার লোকবলকে প্রশিক্ষণ প্রদান, ৬৪টি জেলা ডাকঘরের ই-পোস্ট অ্যাপ সংবলিত স্মার্টফোন প্রদান, গত ৩ বছরে ৩ লাখের বেশি ই-কমার্স পণ্য ঢাকা জিপিও থেকে ইস্যু করা, ২১টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন, ডাক অধিদফতরের ইএমটিএস সেবার সঙ্গে ই-পোস্ট সফটওয়্যারের কারিগরি  ইন্টিগ্রেশন সম্পাদন। ফলে ডাকঘরের সঙ্গে ই-কমার্স মোটেও অপরিচিত নয়।   বরং দিন দিন ই-কমার্সে সফল প্রবেশ ঘটছে ডাকঘরের।

 

বর্তমানে ৬৪ জেলার প্রধান ডাকঘর থেকে ই-কমার্স পণ্য ইস্যু করা যাচ্ছে।   পণ্য ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে প্রত্যন্ত এলাকায়।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে ডাকঘর ই-কমার্স ডেলিভারি সেবা চালু করে।  ২০১৬ সালে পাইলট আকারে ঢাকা শহরের ২১টি ডাকঘরে ই-কমার্স ডেলিভারি সেবা চালু হয়।  পরবর্তী সময়ে দেশের সব উপজেলার ডাকঘর পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে ই-কমার্স ডেলিভারি সেবা বাড়ানো হয়।  ২০১৬ সালে প্রতিদিন ডাকঘর গড়ে ১০টি ডেলিভারি দেয়, ২০১৭ সালে দেয় ২০টি করে।  ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল প্রতিদিন গড়ে ৪০০টি।  ২০১৯ সালে এই সংখ্যা উন্নীত হয় ১ হাজার ২০০টিতে।  ২০২০ সালে যা গিয়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৫০০টিতে।  ২০২১ সালে প্রতিদিন গড়ে ৫০০টি ই-কমার্স দিয়ে বছর শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ডিজিটাল কমার্স তথা ই-কমার্সের সম্প্রসারণের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি।  ই-ক্যাবের সঙ্গেও কাজ করছি। ই-ক্যাবের সঙ্গে আমাদের বোঝাপড়া ভালো।  আমি মনে করি, প্রত্যন্ত গ্রাম, গ্রামের মানুষকে ই-কমার্সের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছাতে গেলে ডাকঘরের বিকল্প নেই।  আমাদের সাড়ে ৯ হাজারের বেশি ডাকঘর আছে।  সমসংখ্যক উদ্যোক্তাও আছে।  ফলে ডাকঘরের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকায় ই-কমার্স নিয়ে যাওয়া সম্ভব।’ 

জানা যায়, প্রতিটি ডাকঘরে ই-কমার্স বুথ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে এই উদ্যোগে,  যেখানে অপারেটররা শুধু ই-কমার্স ডেলিভারি পণ্য ইস্যু এবং রিসিভ সংক্রান্ত কাজ করবেন।  ফলে কমে যাবে ডেলিভারির সময়।  এ কারণে পোস্টাল ডেলিভারিতে ই-কমার্স উদ্যোক্তারা আগ্রহী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।  ডাকঘরের ই-কমার্স নিয়ে এরইমধ্যে একটি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।  ওই লক্ষ্যমাত্রায় ডাকঘরের মাধ্যমে প্রথম ৬ মাসে মাসিক ই-কমার্স ডেলিভারি হবে ১ লাখ ২০ হাজার (মাসে আয় হবে ৩০ লাখ টাকা), প্রথম বছরে প্রতি মাসে হবে ১২ লাখ ডেলিভারি (মাসিক আয় হবে ৩ কোটি টাকা), দ্বিতীয় বছরে হবে প্রতি মাসে ২৪ লাখ ডেলিভারি (মাসে আয় হবে ৬ কোটি টাকা)।  আর তৃতীয় বছরে প্রতি মাসে ডাকঘর ডেলিভারি দেবে ১ কোটি ২০ লাখ, যা থেকে ডাক বিভাগ মাসে আয় করবে ৩০ কোটি টাকা।

বর্তমানে দেশের প্রতিটি জেলা শহরের প্রধান ডাকঘর থেকে পণ্য ইস্যু করা গেলেও বর্তমানে শুধু ঢাকা জিপিও থেকে ই-কমার্স পণ্য ইস্যু করা হচ্ছে, যা পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে উপজেলা ডাকঘর পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।  ই-কমার্স ডেলিভারি সেবার জন্য ডাক বিভাগের রয়েছে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা।  কাভার্ড ভ্যান, ট্রেন ও লঞ্চের মাধ্যমে ডাক বিভাগ ই-কমার্স পণ্য সরবরাহ করে থাকে।  বর্তমানে ৬৪টি জেলা পর্যায়ে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থায় ই-কমার্স পণ্যের ডেলিভারি ডাকঘরে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

জানতে চাইলে ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, ‘ডাকঘরের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়াতে পারে গ্রামীণ ই-কমার্স।  দেশের সব ডাকঘরকে ব্যবহার করে ই-কমার্সের প্রসার ঘটানো যেতে পারে।  প্রত্যন্ত গ্রামের যেখানে প্রচলিত ই-কমার্সগুলো তাদের সেবা পৌঁছাতে পারে না, সেখানে ডাকঘরগুলো সহজেই পৌঁছে যেতে পারে। তারা পণ্য ও সেবা ডেলিভারি দিতে পারে পোস্টম্যানের মাধ্যমে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি প্রস্তাবনা ডাক অধিদফতরকে দিয়েছি।  অনেক প্রস্তাবনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা একমত।  তাদের সঙ্গে কথা হচ্ছে।  ইতিবাচক মনোভাবে দেখিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।’




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top