ঢাকা শনিবার, ৮ অক্টোবর ২০২২, ২২ আশ্বিন ১৪২৯

বোলিংয়ে ঘুরে দাড়ালেও, ২য় ইনিংসের শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়

ক্রীড়া ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২২ ১২:৩৭; আপডেট: ৮ অক্টোবর ২০২২ ০১:০০

 

প্রথম ইনিংসে হতশ্রী ব্যাটিংয়ের পর আশা করা হচ্ছিল দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুটা অন্তত ভালো করবে বাংলাদেশ। মিলছিল দারুণ শুরুর আভাসও। কিন্তু তামিমের অপ্রত্যাশিত আউটে ব্যাট হাতে অস্বস্তি নিয়েই প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে তারা। সেটি আরও তীব্রতর করেছে ব্যাটিং অর্ডারে উন্নতি পাওয়া মেহেদী হাসান মিরাজ দ্রুত ফেরায়। অ্যান্টিগায় ২০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৫০ রান। ক্রিজে আছেন মাহমুদুল হাসান জয় (১৮) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (৮)।

প্রথম ইনিংসে এই ব্যাটিংটাই ছিল যত মাথা ব্যথার কারণ। স্কোরবোর্ডে যথেষ্ট রান থাকলে দ্বিতীয় দিনের দারুণ বোলিংয়ে স্বাগতিকদের আরও বিপদে ফেলা যেত। সেটি হয়নি প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ১০৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ায়। ক্যারিবীয়দের ২৬৫ রানে আটকে রাখা গেলেও প্রথম ইনিংসের ১৬২ রানের লিড তাদের এগিয়েই রেখেছে।  বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে ১১২ রানে।

 

দ্বিতীয় ইনিংসে সতর্ক শুরুর দিকে মনোযোগী ছিলেন দুই ওপেনার। তামিম ইকবাল-মাহমুদুল হাসান জয় মিলে ভালো শুরুর ইঙ্গিতও দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু দশম ওভার পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছে তামিমের প্রতিরোধ। আলজারি জোসেফের সুইং করা গুড লেংথের ডেলিভারি ঠিকমতো ডিফেন্ড করতে পারেননি। বল ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়ে জশুয়া ডা সিলভার গ্লাভসে। ৩১ বল খেলা তামিম ফেরেন ২২ রানে। তুলনায় জয় ছিলেন বেশি সাবধানী। মিরাজ ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পেয়ে তার সঙ্গী হতে চাইলেও পরিকল্পনা কাজে দেয়নি। ২ রানে জোসেফের বাড়তি বাউন্সারে পরাস্ত হয়ে ধরা পড়েছেন প্রথম স্লিপে।

 

অথচ বল হাতে কতটা দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই না দেখিয়েছে সফরকারী দল। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ছিল মাত্র একটি উইকেট। তাতে প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আধিপত্যই প্রকট হয়ে উঠে। কিন্তু দ্বিতীয় সেশনে দারুণ বোলিংয়ে ৩ উইকেট তুলেই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় তারা। চায়ের বিরতিতে যাওয়ার আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ২৩১ রান। বিরতির পর ফিরে তারা ৩৪ রান যোগ করেই অলআউট হয়ে গেছে।

দ্বিতীয় সেশনে গুরুত্বপূর্ণ ৩ উইকেট তুলেই প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করেছে বাংলাদেশ। তৃতীয় সেশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আরও চেপে ধরায় বেশি দূর যেতে পারেনি স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস। মিরাজের ঘূর্ণিতে তারা ১১২.৫ ওভারে প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে গেছে ২৬৫ রানে।

 

২ উইকেটে ৯৫ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভাগ্যকে সঙ্গী করেই দ্বিতীয় দিন শুরু করে। বেশ কিছু ক্যাচ মিসের সঙ্গে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছে রিভিউ নেয়ার ক্ষেত্রেও। তাতে নির্ঘাত আউট করার মুহূর্তগুলোও হাতছাড়া করেছে।  না হলে ক্যারিবীয়দের আরও আগেই গুটিয়ে ফেলার সম্ভাবনা ছিল। তাতে প্রথম সেশনে ঘণ্টাখানেক সাফল্যহীন থেকেছে বাংলাদেশ। 

 

শেষ পর্যন্ত সাকিবের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে পড়ে বনারের উইকেট। দুবার জীবন পাওয়া এই ব্যাটার ৯৬ বল খেলে ফেরেন ৩৩ রানে। তার বিদায়ে ভাঙে ব্র্যাথওয়েট-বনারের ৬২ রানের জুটিও। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনের সাফল্য বলতেও ছিল ওই একটি উইকেট। বিনিময়ে যোগ হয় ৬৪ রান।

তার পরেও ক্যারিবীয় অধিনায়কের দায়িত্বশীল ব্যাটিং স্বাগতিকদের এগিয়ে নিতে থাকে। ব্ল্যাকউডকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে খেলেছেন লাঞ্চ বিরতির পর। টেস্ট মেজাজে খেলে ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী করেছেন। ব্ল্যাকউডও যোগ্য সঙ্গ দেন তাকে। ২৬৮ বল খেলে ব্র্যাথওয়েট ৯৪ রানে ফিরলে ভাঙে দুজনের ৬৩ রানের জুটি। তাকে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করেছেন পেসার খালেদ।

ক্যারিবীয় অধিনায়কের বিদায়ের পরেই দুর্বল হয়ে পড়ে স্বাগতিকদের প্রতিরোধ। শুরু হয় মিরাজের ঘূর্ণিজাদু।

 

মিরাজের বলে এলবিডাব্লিউ হন কাইল মেয়ার্স। নতুন নামা জশুয়া ডা সিলভাকেও টিকতে দেননি তিনি। তার ঘূর্ণিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ১ রানে। তাতে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েই সফরকারী দল চায়ের বিরতিতে গেছে।

 

তৃতীয় সেশনের শুরুতে একই লক্ষ্যে মিরাজ আঘাত হানেন আবার। লেংথ ডেলিভারিতে আলজারি জোসেফকে সোহানের ক্যাচ বানিয়েছেন। তাতে ক্যারিবীয় ব্যাটারের বিদায় নিশ্চিত হয় শূন্য রানেই। মিরাজের উইকেট উৎসবে এটাও নিশ্চিত হয় যে তৃতীয় সেশনে বেশি দূর যাচ্ছে না ক্যারিবীয়দের ইনিংস।

তা প্রমাণও করেন এবাদত হোসেন। দ্রুত কেমার রোচকে তালুবন্দি করান স্লিপে।তবে এই সময়ে অভিষেক হওয়া গুডাকেশ মোটি ও ব্ল্যাকউড মিলে দ্রুত রানও জমা করেন স্কোরবোর্ডে। আগ্রাসী হতে যাওয়া এই জুটি ভাঙেন খালেদ। ১৩৯ বলে ৬৩ রান করা ব্ল্যাকউডকে মিরাজের তালুবন্দি করিয়েছেন।

 

এর পর মিরাজ জেইডেন সিলসকে নিজের চতুর্থ শিকার বানালে প্রথম ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। মোটি ২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।

 

সবচেয়ে সফল মিরাজ ৫৯ রানে নেন ৪টি উইকেট। ৫৯ রানে দুটি নেন খালেদ আহমেদ। ৬৫ রানে এবাদত হোসেনও নেন দুটি। একটি করে উইকেট নিয়েছেন মোস্তাফিজ, সাকিব।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোরবোর্ড দ্বিতীয় দিন শেষে:

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে: ৩২.৫ ওভারে ১০৩ (তামিম ২৯, লিটন ১২, সাকিব ৫১; সিলস ৩/৩৩, জোসেফ ৩/৩৩, রোচ ২/২১, মেয়ার্স ২/১০)

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে: ১১২.৫ ওভারে ২৬৫ (ব্র্যাথওয়েট ৯৪, ব্ল্যাকউড ৬৩, বনার ৩৩, ক্যাম্পবেল ২৪, মোটি ২৩*; মিরাজ ৪/৫৯, খালেদ ২/৫৯, এবাদত ২/৬৫, মোস্তাফিজ ১/৩০, সাকিব ১/৪৮)

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে: ২০ ওভারে ৫০/২ (তামিম ২২, জয় ১৮*, শান্ত ৮*)




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top