ঢাকা বুধবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

.

শেষ ওভারের নাটকীয়তায় পাকিস্তানের জয় : বাংলাদেশ ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হার

স্পোর্টস ডেস্ক | প্রকাশিত: ২২ নভেম্বর ২০২১ ১৮:০৫; আপডেট: ৮ ডিসেম্বর ২০২১ ০৯:৪৮

 

সিরিজের ৩য় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শেষ ওভারে চরম নাটকীয়তা আর উত্তেজনা ছড়িয়ে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নার্ভ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ টি-টোয়েন্টি পাকিস্তান জিতে নিয়েছে ৫ উইকেটে। তাতে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে বাংলাদেশ। 

 

টানা ব্যর্থ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। বিশ্বকাপ থেকে এই সিরিজেও টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশ যেন নিজেকে হারিয়ে ফিরছে। বিশ্বকাপ ব্যর্থ হওয়ার পর টিম ম্যানেজম্যান্ট অনেকগুলো পরিবর্তন এনেও দলকে সঠিক পথে চালাতে পারে নি। ওপেনাররা বরাবরের মতো ব্যর্থ এই সিরিজেও।

 

হটোকারি সিদ্ধান্তের বলি হচ্ছে একের পর এক খেলোয়ার। বাংলাদেশের ক্রিকেট এর জাতীয় দল যেন এখন ম্যাজিক্যাল চেয়ারে পরিণত হয়েছে। কে কখন দলে সুযোগ পাচ্ছে কেই বা আবার কোন ম্যাচ না খেলে দল থেকে বাদ পড়ছে তা যেন বলা মুসকিল। যেমন রুবেল টানা ‍দুটি সিরিজে থাকলেও কোন ম্যাচ না খেলেও বাদ পড়তে হয়।

 

সব নাটক জমা রেখেছিল শেষ ওভার। ৬ বলে প্রয়োজন ৮ রান। টি-টোয়েন্টি এমনই এক খেলা এক-দুই বলেই গতিপ্রকৃতি পাল্টে যায়। মাহমুদউল্লাহ বোলিংয়ে এলে হয়েছেও তাই। প্রথম বলে কোনও রান নিতে পারেননি সরফরাজ। বরং ১৯.২ ওভারে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায় পরের বলে হায়দার আলী ৩৮ রানে ফিরে গেলে। হ্যাটট্রিক সম্ভাবনার বলে অবশ্য ৬ মেরে দলকে কক্ষপথে রাখেন ইফতিখার। চরম নাটকীয় মুহূর্তে ইফতিখার ক্যাচ দিয়ে ফিরলে পাকিস্তান আবারও চাপে পড়ে যায় তখন। কিন্তু শেষ বলে যখন ২ রান প্রয়োজন, তখন আর রান চেক দিতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। ৫ উইকেট হারানো দলটিকে জয়ের স্বাদ পাইয়ে দেন নওয়াজ। তাও আবার চার মেরে।  তাতে ৫ উইকেটের জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে সফরকারীরা। 

অথচ শুরুতে মনে হয়নি শেষটা এমন নাটকীয় হবে। ১২৫ রানের লক্ষ্যে দুই ওপেনার সতর্ক শুরুতে ৩২ রান যোগ করেছিলেন। সপ্তম ওভারে মেরে খেলতে গিয়ে তালুবন্দী হয়েছেন অধিনায়ক বাবর আজম। আমিনুল ইসলামের লেগ স্পিনেই বিপদ ডেকে আনেন তিনি। ১৯ রান করে ক্যাচ তুলে দেন নাঈমের হাতে। 

এরপর পাকিস্তানের ইনিংস সামলেছেন মূলত রিজওয়ান-হায়দার আলী। দুজনে ৫১ রানের জুটি গড়লেও সেটি ছিল ধীর গতির। রানের চাপ বেড়ে যাওয়ার মুহূর্তেই জুটি ভেঙে চাপ সৃষ্টির মুহূর্ত এনে দিয়েছিলেন অভিষিক্ত শহীদুল। তার বলে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন রিজওয়ান (৪০)। অথচ এই চাপ সৃষ্টির ওভারেই দুটি ছয় মেরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিল সফরকারীরা।

শেষ ওভারের নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করা মাহমুদউল্লাহ এক ওভার করেছেন। ১০ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। একটি করে নিয়েছেন শহীদুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম।

এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে ৭ উইকেটে ১২৪ রান করে বাংলাদেশ। বরাবরের মতো পাওয়ার প্লের সুযোগ কাজে না লাগিয়ে শ্লথ গতিতে খেলতে দেখা গেছে তাদের। নাঈম একপ্রান্ত আগলে খেলেছেন কিন্তু পরিস্থিতির চাহিদা মেটাতে ব্যর্থ ছিলেন। মাঝে শামীম-আফিফ পরিস্থিতির চাহিদা মেটাতে চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। তবে নাঈমের ব্যাট থেকেই এসেছে সর্বোচ্চ ৪৭ রান। খেলেছেন ৫০টি বল। শামীম ২৩ বলে ২২ ও আফিফ ২১ বলে ২০ রান করেছেন।

পাকিস্তানের হয়ে ১৫ রানে দুটি উইকেট নেন পেসার মোহাম্মদ ওয়াসিম। ৩৫ রানে দুটি নেন লেগ স্পিনার কাদিরও। একটি করে উইকেট নেন শাহনেওয়াজ দাহানি ও হারিস রউফ।

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top