ঢাকা সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

কদমতলী থানার পুলিশের দক্ষতায় অপহরণ ও হত্যার ২ আসামী গ্রেফতার

এম. এ রনী | প্রকাশিত: ৪ জুলাই ২০২১ ১০:২৪; আপডেট: ৫ জুলাই ২০২১ ১৪:৪৬

রাজধানীর কদমতলী থানা যেন বর্তমানে সাধারণ মানুষের কাছে এক আস্থা এবং বিশ্বাসের জায়গা করে নিয়েছে ধীরে ধীরে। আর এই সাফল্য ধরা দিয়েছে কদমতলী থানার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন মীরের সাধারণ মানুষের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং সততার কারণে।

অপরাধ প্রবন আর মাদকের সয়লাব এলাকা হিসেবে ডিএমপির কদমতলী থানা। কিন্তু জামাল উদ্দিন মীর দায়িত্বভার গ্রহন করার পর থেকেই সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে ন্যায় ও সততা দিয়ে ধীরে ধীরে এলাকাটিকে অপধারের হার অনেক কমিয়ে নিয়েছেন।

বর্তমানে ওসি কদমতলীর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কাছে মাদকসেবী এবং মাদকব্যবসায়ীদের কাছে ভিতি হিসেবে কাজ করছে। প্রায় প্রতিদিনই বিপুল পরিমানে মাদকসহ গ্রেফতার হচ্ছে মাদকব্যবসায়ী। সাথে কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রন করছেন বর্তমানে কিশোর গ্যাং নামে আতঙ্ক ছড়ানো কিশোর অপরাধীদের।

রাজধানীর কদমতলীতে অপহরণ করে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে কদমতলী থানা পুলিশ।  এ হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

গত বৃহস্পতিবার (১ জুলাই,২০২১) দিবাগত রাত ১২:১০ টায় কদমতলী থানার রায়েরবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো: আব্দুল হাই এবং মোঃ রানা।

পারিবারিক কলহের জের ধরে ভিকটিম নাছরিনের সাথে তার স্বামীর বিবাহ বিচ্ছেদের পর ভিকটিম ও তার মেয়ে নাবিলা কদমতলী থানার শনির আখড়া দনিয়া গোয়াল বাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত ১৮ মে, ২০২১ (শুক্রবার) সন্ধ্যা ০৭:৩০ টায় ভিকটিম বাসা হতে বের হয়ে আর ফিরে আসে নাই। এ ঘটনায় ভিকটিমের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৪ জুন, ২০২১ কদমতলী থানায় অপহরণ মামলা রুজু হয়। মামলাটি তদন্ত শুরু করে কদমতলী থানা পুলিশ।

কদমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জামাল উদ্দিন মীর পিপিএম জানান, মামলাটি তদন্তকালে বিভিন্ন উৎস হতে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে কদমতলীর রায়েরবাগ এলাকা হতে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃত আব্দুল হাই এর সাথে ভিকটিমের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিন ১৮ মে, ২০২১ সন্ধ্যা ০৭:০১ টায় আব্দুল হাই  এর ফোনকলে শপিং ব্যাগ হাতে ভিকটিম বাসা হতে বের হয়ে আসে । গ্রেফতারকৃতরা সুকৌশলে ভিকটিমকে  প্রাইভেটকারে তুলে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরায়। পরবর্তীতে তারা ভিকটিমকে  নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চনব্রীজ এলাকায় নিয়ে যায়। এরপর  গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে ভিকটিমকে হত্যা করে।  হত্যার পর ভিকটিমের লাশ ব্রীজের উপর হতে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মোঃ লালবুর রহমান, পিপিএম জানান, গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্যের আলোকে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানায় যোগাযোগ করা হয়। গত ২১ মে, ২০২১ নৌ পুলিশের সহায়তায় শীতলক্ষ্যা নদী হতে  অজ্ঞাতনামা একজন মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায়ও হত্যা মামলা রুজু হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো বলেন, রূপগঞ্জ থানার হেফাজতে থাকা ভিকটিমের লাশের ছবি, ভিকটিমের ব্যবহৃত ঘড়ি, ব্রেসলেট ও আংটি দেখে ভিকটিমের পরিবারের সদস্যরা  ভিকটিমের লাশ শনাক্ত করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হত্যার দায় স্বীকর করে বিজ্ঞ আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেছে মর্মে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।

কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামাল উদ্দিন মীর ‘পুলিশই জনতা আর জনতাই পুলিশ’ এই স্লোগানকে ধারণ করেই তার এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে কদমতলী থানার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য কদমতলী থানার পুলিশিং কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম বাবু এবং তিনি নিজে প্রতিটি মসজিদ, স্কুল, কলেজে উপস্থিত হয়ে অপরাধ সম্পর্কে মানুষকে সচেতনতামুলক মতবিনিময় করছেন।

শুধুমাত্র অপরাধী দমন নয় অপরাধন দমনের জন্য বিভিন্ন পরামর্শমূলক আলোচনার মাধ্যমে মানুষকে আরও সচেতন করার জন্য উদ্ভুদ্ধ করছেন।

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top