2446

10/22/2021 রাজনীতির ফিনিক্স পাখি শেখ হাসিনা

রাজনীতির ফিনিক্স পাখি শেখ হাসিনা

ড.মশিউর মালেক

১ আগস্ট ২০২১ ০০:৫০

শেখ হাসিনা একজন মেধাবী, পরিশ্রমী এবং ভিশনারী রাষ্ট্রনায়কের নাম। 
 
তিনি বারবার আগুনে পুড়ে ছাই ভষ্ম থেকে পূনর্জন্ম লাভ করে করে রাজনীতির আকাশে দাপিয়ে বেড়ানো এক ফিনিক্স পাখি।
 
তিনি প্রথম পুড়েছেন ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বন্দীদশায় সন্তান জন্ম দেয়ার কালে।
 
যখন জানতেন না ভবিষ্যৎ কী? জানতেন না যুদ্ধ কবে শেষ হবে বা সে পর্যন্ত স্বামী সন্তান নিয়ে জীবিত থাকবেন কি না? পিতাকে আর কখনো দেখতে পাবেন কি না? পরিবারের কারো সাথে মিলিত হতে পারবেন কি না?
 
দ্বিতীয়বার পুড়েছেন ১৯৭৫ এ পিতা সহ পরিবার ও ঘনিষ্ঠ স্বজন সকলকে হারিয়ে নির্বাসিত জীবন কাটানো কাল থেকে শুরু করে।
 
এর পর ১৯৮১'র ফেব্রুয়ারিতে জোটেল ইডেন এর সম্মেলনে আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ১৭ মে দেশে ফিরে আসা পর্যন্ত। এ ছিল তার পূনর্জন্ম।
 
ষড়যন্ত্রের আগুনে পোড়া ছাই ভষ্ম থেকে এ জন্ম তাঁকে  রজনীতির ফিনিক্স  পাখি হিসেবে বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে দাপিয়ে উড়তে থাকেন।
 
উড়তে উড়তে তিনি দলের সভাপতি হিসেবে দলকে সংগঠিত করতে থাকেন পাশাপাশি জনগনের  ভোট ও ভাতের লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন।
 
দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তাঁর ব্যক্তি জীবনের উপর হামলা এসেছে মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন বারংবার। প্রতিবারই তিনি আগুনে পুড়ে পোড়া  ছাইভষ্ম থেকে ফিনিক্স পাখির মত পূনর্জন্ম লাভ করে নব উদ্যমে রাজনীতির আকাশ দাপিয়ে বেড়িয়েছেন দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে। 
 
তিনি জাতির পিতার এবং তাঁর পরিবার সহ স্বজনদের হত্যার বিচারের দাবীতে জনমত সুসংগঠিত এবং সুসংহত করেছেন।
 
একুশ বছরের লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে ১৯৯৬ সনে ক্ষমতায় এসে জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং গণদাবীর প্রতি সম্মান রেখে জাতির পিতা সহ তাঁর পরিবারের এবং স্বজনদের হত্যার বিচার করেছেন।
 
কোনরকম বিতর্ক বা দুর্ণাম ছাড়াই  সফলভাবে  দেশ শাসন করে অতীত সব রেকর্ড ভেঙে সংবিধানে উল্লিখিত মেয়াদের একদিনও অতিরিক্ত ক্ষমতায় না থেকে সংবিধান সম্মত ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। যা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল।
 
বলা হয়ে থাকে ১৯৯৬- ২০০১ আমলের শেখ হাসিনার শাসনকাল বাংলাদেশের ইতিহাসের  স্বর্ণযুগ।
 
২০০১ এর সাহাবুদ্দিন- লতিফ- সাঈদ  ত্রি-চক্রিয় ষড়যন্ত্রের নির্বাচন এবং নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি অগ্নিপ্রজ্জ্বলিত ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে তাঁকে এবং তাঁর দল আওয়ামীলীগকে।
 
সে ধ্বংসস্তুপের ছাইভষ্ম থেকে আবার ফিনিক্স পাখির পূনর্জন্ম নেন শেখ হাসিনা দেশ মাতৃকার কণ্যা সাহসিকা হিসেবে।
 
নতুন করে সাহস আর উদ্যম নিয়ে ধ্বংসস্তুপ থেকে টেনে বের করেন নিজ দল আওয়ামীলীগকে এবং সাথে টানেন মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী সব দলকে।
 
শুরু করেন আবার রাজপথের লড়াই।মুক্তিযুদ্ধের চেতনা,স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পূনরুদ্ধারের লড়াই। এ লড়াই হয়ে ওঠে কঠিন থেকে কঠিনতর।
 
মাথার উপরে স্বাধীনতা বিরোধী জামাত পুষ্ট মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তি পাকিস্তানী ভাবধারায় লালিত সরকারের প্রশাসনিক নির্যাতনের যাঁতাকল আর মাঠে জেএমবি, বাংলা ভাই,হরকাতুল জেহাদ সহ নানা জঙ্গীগোষ্ঠি হায়নার দন্ত নখরের থাবা।
 
এ অবস্থায় দণ্ডপ্রাপ্ত বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামস এবং শান্তিকমিটির সদস্যদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তিকে নির্মূলের সুপরিকল্পিত সন্ত্রাস সহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে আবৃত থেকেই  যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী নিয়ে রাজনীতির আকাশ দাপিয়ে বেড়াতে থাকেন রাজনীতির ফিনিক্স পাখি শেখ হাসিনা।
 
তাঁর দাপটে প্রমাদ গোনে ষড়যন্ত্রী অক্ষশক্তি। অতএব তাঁকে সহ আওয়ামীলীগকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা এঁটে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামীলীগ অফিসের সন্মুখে সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশে ২০০৪ সনের ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা চালনা হয়।
 
সৃষ্টিকর্তার অপার মহিমায় শেখ হাসিনা সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বেঁচে যান আইভি রহমান সহ ২৪ জন নেতাকর্মী এবং দেহরক্ষী মাহবুব এর জীবনের বিনিময় সহ কয়েক শত নেতা কর্মীর চিরতরে আহত ও পঙ্গুত্বের বিনিময়ে।
সে দিনের সেই     ধ্বংসস্তুপের মধ্য থেকে ভয়লেশ মুক্ত হয়ে নিজের জীবনকে অতিরিক্ত জীবন ভেবে নিজ_কে পূনর্জন্ম দেন রাজনীতির ফিনিক্স  শেখ হাসিনা।সকল দ্বিধা ভয় মুক্ত শেখ হাসিনা এবার হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য, আর কর্মীদেরও গড়ে তোলেন সে ভাবেই।
 
তাইতো ২০০৬- ২০০৭ এ দুষ্ট চক্রের ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে লগি বৈঠার মত কর্মসূচি দেন।
 
২০০৭ এর এক এগারোতে এবার মাঠে নামে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রীরা। তারা তাদের মদদপুষ্ট সেনাসমর্থনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করায়।
 
মানুষ আপাত শান্ত হলেও যখন তাদের শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে নির্বাসনে পাঠানোর ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা উন্মোচিত হয় তখন মানুষ ফুঁসে ওঠে।
 
আন্তর্জাতিক জনমত গড়ে ওঠে শেখ হাসিনার পক্ষে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত আসতে দিতে বাধ্য হয়। নির্বাসনে পাঠানোর পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে দেশের ভেতরে মানুষের মন থেকে নির্বাসন দেয়ার পরিকল্পনা আঁটে ষড়যন্ত্রীরা।
 
তারা নানা লোক দিয়ে মিথ্যা নাটক ও কল্প কাহিনী সাজিয়ে শেখ হাসিনাকে দূর্ণীতিবাজ ও চাঁদাবাজ প্রমাণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে গ্রেপ্তার করে।
 
রাতারাতি অভিযোগ পত্র দাখিল করিয়ে বিচার শুরু করে দোষি প্রমাণ করে দন্ড দেয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে।নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমাণ করার জন্য 'মাইনাস টু'  ফর্মুলা রটিয়ে দিয়ে লোক দেখানো ভাবে গ্রেপ্তার করে ষড়যন্ত্রীদের মক্ষীরাণী খালেদা জিয়াকে।
 
কিন্তু খালেদা জিয়ার মামলায় কোন অগ্রগতি হয় না। মূলতঃ ষড়যন্ত্রীদের লক্ষ্য ছিল মাইনাস টু নয় মাইনাস ওয়ান অর্থাৎ মাইনাস শেখ হাসিনা।
 
মিথ্যা মামলায় যদি শেখ হাসিনা আইনী সুবিধা পেয়ে যায় তাই আওয়ামীলীগের খ্যাতিমান আইনজীবীদের সেনাছাউনিতে চায়ের দাওয়াত দিয়ে নিয়ে গিয়ে তাদেরকেও জেলে ভরার হুমকি দিয়ে শেখ হাসিনার পক্ষে  মামলা লড়া থেকে বিরত রাখেন।
 
এর পরও ভয় কাটে না দুষ্ট চক্রের। তাই তারা এবার ছড়ালো 'সস্কার তত্ত্ব'।
 
কিন্তু জনগণের ভালোবাসায় দেশে বিদেশে শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলনের ফলে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক জনমতের কাছে হার মানতে বাধ্য হন দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রী চক্র। মুক্তি পান শেখ হাসিনা।
 
তিনি মুক্তি পান শুধুমাত্র আওয়ামীলীগের নেতা হিসেবে নয় মুক্তি পান স্বাধীনতা প্রিয় এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল মুক্তিকামী মানুষের এবং দল মতের একচ্ছত্র ভরসার স্থল ও ঐক্যের প্রতীক হয়ে।
 
যেমন তাঁর পিতা শেখ মুজিবুর রহমান আগরতলা মামলা থেকে মুক্ত হয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু হয়ে জাতির একমাত্র ভরসার স্থল ও স্বাধীনতা সংগ্রামের একচ্ছত্র নেতা হিসেবে।
 
যে ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু জনগণের  নিরংকুশ ম্যান্ডেন্ট নিয়ে শাসনতান্ত্রিক ভাবে জনগণের নেতায় পরিণত হয়ে হন মুকুটহীন সম্রাট এ।
 
যার ফলে তিনি সমর্থ হন একটি নিরস্ত্র  জাতিকে স্বাধীনতা  সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে উদবুদ্ধ করতে।
 
আর সে জাতি তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁরই নেতৃত্বের নামে যুদ্ধ জয় করে শত্রু মুক্ত বিজয়ী দেশ গড়তে সমর্থ হয়। তিনি মুক্ত হয়ে দেশে ফিরে জনগণকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন একটি জাতিরাষ্ট্র।
 
ঠিক তেমনিভাবেই রাজনীতির ফিনিক্স পাখি শেখ হাসিনা কারামুক্ত হয়ে জনগণের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে নির্বাচনে নিরংকুশ বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে অপ্রতিরোধ্য  রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হন।
 
তাই ২০০৯ এ ক্ষমতা গ্রহণ করেই  তিনি জনগণের কাছে দেয়া নির্বাচনী   ওয়াদার বাস্তবায়নে ব্রতী হন।প্রান্তিক মানুষের জন্য প্রণয়ন করেন একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প।
 
ঘরে ঘরে চাকরি দেয়ার ওয়াদা পূরণে দরিদ্রতম মঙ্গা পিড়ীত  রংপুর এবং দরিদ্রতম বরগুনা এ দুই জেলাকে বেছে নেন।
 
জনগণের আশার প্রতিফলন ঘটাতে জাতির পিতার হত্যার দায়ে দন্ডিত আসামিদের দন্ড কার্যকর করেন।শুরু করেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ।তাদের বিচারে দন্ডপ্রাপ্তদের দন্ড কার্যকর করেন।
 
যে বিচার এখনও চলমান। তিনি জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে এগিয়ে চলতে থাকেন। পাশাপেশি দেশের উন্নয়নের কাজেও হাত দেন। পদ্মা সেতুর মত বৃহদ প্রকল্প সহ ঢাকা শহরের জানজট নিরসনকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করেন। 
 
শেখ হাসিনার এই দৃঢ়তায় দুষ্ট চক্র প্রমাদ গোনে,ভয় পেয়ে যায়।
আবার তারা মাঠে নামে। ষড়যন্ত্রের ডালপালা ছড়াতে থাকে। স্বাধীনতা বিরোধী চক্র, বঙ্গবন্ধুর খুনের দন্ডিত পলাতক আসামী এবং বিএনপির  সম্মিলিত চক্র আন্তর্জাতিক ভাবে লবিষ্ট নিয়োগ করে দেশ বিরোধী ও হাসিনা বিরোধী প্রচারণা চালাতে থাকে।
 
ফলে জাতিসংঘের মহাসচিব সহ আন্তর্জাতিক শক্তির অনেকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসী না দিতে নসিহত করেন। বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর ঠিকাদার নিয়োগের আগেই দূর্ণীতি হয়েছে বলে বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত নিয়ে যায়, উদ্দেশ্য শেখ হাসিনাকে বিপাকে ফেলা।
 
শেখ হাসিনা কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে  যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসীর রায় কার্যকর করতে থাকেন। পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থে নির্মাণের সাহসী সিদ্ধান্ত নেন।
 
একের পর এক মেগা প্রকল্প গ্রহণ করতে থাকেন।বিরোধী চক্র আন্তর্জাতিক ভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়ে আভ্যন্তরীণ ভাবে শেখ হাসিনাকে পরাস্ত করতে ষড়যন্ত্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের আশায়।
 
তারা মাঠে নামায় হেফাজতি মৌলিবাদীদের। পরিকল্পনা  করে ২০১৩ এর ৩ মে  বিএনপির সমাবেশ করে সারা দেশ থেকে আসা নেতা কর্মীদের ঢাকায় থাকার নির্দেশ দিয়ে ৫ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলে।
 
৫ মে হেফাজতিরা  এমন কতকগুলো অসুস্থ ১৩ দফা দাবীতে সারা দেশ থেকে মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষকদের ঢাকায় নিয়ে এসে সমগ্র ঢাকা শহরে নিজেরা নিজেদের আক্রমণ করিয়ে ও জ্বালাময়ী, অশ্লীল, উত্তেজনাকর বক্তব্য দিয়ে এক অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে।
 
তারা এমনকি কোরান শরিফও  পুড়িয়ে সাধারণ নিরীহ ছাত্র শিক্ষকদের উত্তেজিত করে ঢাকায় অবস্থান করার ঘোষণা দেয়।কৌশল ছিল পরেরদিন ঢাকায় এবং ঢাকার আশপাশে আগে থেকে অপেক্ষা করা বিএনপি সহ বিশ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা পরের দিন সমাবেশে যোগ দেবে।
 
বিশ দলীয় জোটের  একাধিক নেতা সেদিন হেফাজতি মঞ্চে বক্তব্য পর্যন্ত রাখেন।
 
তাদের পরিকল্পনা ছিল পরদিন জনস্রোত নিয়ে সচিবালয় আক্রমণ করে সচিবালয়ের দেয়াল ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে সচিবালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ক্ষমতা দখলের ঘোষণা দেবে।
 
মামুনুল হকের জবানবন্দীতে আজ তাদের এ পরিকল্পনা প্রমাণিত।শেখ হাসিনার দৃঢ়তা এবং সেনা ও পুলিশ প্রশাসনের কৌশলী  ভূমিকায় কোন রক্তপাত ছাড়াই সে সংকট কাটানো গেছে।
ষড়যন্ত্রী চক্র এর  পরে শুরু করে সমগ্র দেশে অরাজকতা। তারা অসাংবিধানিক অনির্বাচিত সরকারের দাবির ধুয়া তুলে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের উপরে হামলা চালানো শুরু করে।গণপরিবহনে পেট্রোল বোমা হামলা চালিয়ে অগ্নিদগ্ধ করে সাধারণ জনগণ হত্যা করা শুরু করে।
 
তারা নির্বাচন বয়কট করে নির্বাচনী কেন্দ্র, সরকারী অফিস স্কুল প্রভৃতি জ্বালাতে থাকে। তখন অনেক নেতা বা বিদেশী চক্রের অনেক নসিহত উপেক্ষা করে একা ফিনিক্স শেখ হাসিনা দৃঢ় ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করেন।
 
অনেকেরই ধারণা  ছিল অল্প দিনের মধ্যেই সরকারের পতন ঘটবে। কিন্তু শেখ হাসিনা ততদিনে নিজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা,মেধা,প্রজ্ঞা ও দুরদৃষ্টি দিয়ে বুঝে গেলেন দেশের উন্নয়ন করতে হলে, দেশের জনগণের সত্যিকারের অর্থনৈতিক মুক্তি আনতে হলে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়তে হলে স্বাধীনতার শত্রুদের রাজনৈতিক ভাবে  নিশ্চিহ্ন করতে হবে।
 
এদের ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসার পথ রোধ করতে হবে। তাই তিনি দৃঢ়ভাবে উন্নয়নে মনোনিবেশ করলেন,মনোনিবেশ করলেন জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে।
 
শেখ হাসিনা সকলকে অবাক করে দিয়ে টানা দ্বিতীয়  মেয়াদের এক বছর পার করায় পতন না ঘটা পর্যন্ত ঘরে না ফেরার ঘোষণা দিয়ে অগ্নিসন্ত্রাসের জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন শুরু করলো জামাত - বিএনপি চক্র।
 
শেখ হাসিনার দৃঢ়তা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শক্তির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে বিএনপির নেতৃত্ব ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো।  গ্লানি মাথায় নিয়ে আন্দোলন ছেড়ে ঘরে ফিরে গেলেন।বজনগণ স্বস্তি পেল। শেখ হাসিনা উন্নয়নের মেগা মেগা প্রকল্প নিয়ে এগোতে লাগলেন। 
 
বিরোধী চক্র বুঝে গেলেন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে আরো ২/১ মেয়াদে নামানো সম্ভব নয়। অতএব কৌশল এবার আওয়ামীলীগের ঘরে ঢুকেই আওয়ামীলীগকে পরাজিত করতে হবে। কিন্তু তাদের সে চেষ্টা লও ব্যার্থ হলো।
স্থানীয় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ প্রায় নব্বই শতাংশ জয়লাভ করে।
এরই মধ্যে আসে ২০১৮ এর  জাতীয় নির্বাচন। আবারো সেই ষড়যন্ত্র। অবশেষে আবারও শেখ হাসিনা গণমানুষের রায় পেলো।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলো। সন্ত্রাসও জঙ্গিবাদ দমনে প্রায় শতভাগ সফল প্রিয় এ নেত্রী। 
 
অবাক করা উন্নয়নে আধুনিক বিশ্বে এখন রোল মডেল বাংলাদেশ। পদ্মা সেতু, ফ্লাইওভার ,  টানেল, মেট্রোরেল, রাস্তাঘাট,শিল্পাঞ্চল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ  উন্নয়নমূলক  কর্মাকান্ডে  দেশের মানুষের মনে স্বস্তি বিরাজ করছে। 
 
কেবল তাই নয় করোনা থেকে বাচঁতে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে পৃথিবীর দামি অনেক দেশের আগেই আমাদের দেশের মানুষ করোনার টিকা নেয়া সুযোগ পাচ্ছে।  
 
মিয়ানমারের জান্তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে প্রায় ১৫ লাখ শরনার্থীকে আশ্রয় দিয়ে বিশ্ব দরবারে মানতার নেত্রী হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এ খবরটি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়।  
হে মানবতার নেত্রী আপনিই বাংলাদেশ, আপনি ক্ষমতায় থাকলে দেশের আপামর জনগণ ভালো থাকে। আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বই পারে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে।  আপনি শতায়ু হোন প্রিয় নেত্রী। 
 
 
 
লেখক : 
 
প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী সভাপতি, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন। 
 
 
 
 
 

যোগাযোগ: ৪৪৬ (৪র্থ তলা), নয়াপাড়া, ধনিয়া, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা-১২৩৬
মোবাইল:
ইমেইল: sangbadprotidinnews24@gmail.com