203

12/08/2022 শিক্ষায় মাইলফলক কিন্তু কম নয়

শিক্ষায় মাইলফলক কিন্তু কম নয়

এস এম আববাস,

২১ মার্চ ২০২১ ২২:৫৫

স্বাধীনতার ৫০ বছরে শিক্ষায় সফলতা-ব্যর্থতার অনেক পরিসংখ্যানই মিলবে। তবে অবকাঠামোর উন্নয়ন, ৯৮ শতাংশ এনরোলমেন্ট, বছরের প্রথম দিন নতুন বই- এসব মাইলফলকও কিন্তু কম নয়! শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়- গত এক দশকেই মূলত অগণিত উন্নয়ন চাক্ষুষ করেছে আমাদের শিক্ষাখাত।

সব স্তরে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। শিক্ষায় আমূল পরিবর্তনে বদলানো হচ্ছে কারিকুলাম।

 

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, ‘শিক্ষায় আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ই ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। প্রতিবছর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিচ্ছি আমরা। এনরোলমেন্ট প্রায় শতভাগ। কারিগরি শিক্ষাতেও অংশগ্রহণ বেড়েছে।’

 

মন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু একযোগে ৩৭ হাজার ৬৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছিলেন। তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেছেন। ২০১৯ সালে আড়াই হাজারের বেশি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে। আইন করে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের সুযোগ করা হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক হয়েছে। ধারাবাহিক মূল্যায়ন শুরু হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষাকেও আধুনিক করা হচ্ছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর ৩৭ হাজার ৬৭২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের পর ২০১৩ সালে কয়েক ধাপে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। শিক্ষক সংকট মেটাতে ব্যাপকভাবে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। করোনার সময় প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কার আনা হয়েছে।  শিক্ষকদের বেতন গ্রেড উন্নয়ন করা হয়েছে। প্রান্তিক পর্যায়ের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে উপবৃত্তি চালু হয়েছে। স্কুল ফিডিং কর্মসূচির পর মিড-ডে মিল চালু হচ্ছে।

প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলাদা ওয়াশ ব্লক স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে কয়েক বছর আগেই। প্রাক প্রাথমিক শিক্ষাও চালু হয়েছে। প্রাথমিকেও শুরু হয়েছে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম।

অন্যদিকে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নেও একাধিক কর্মসূচি চালু হয়েছে। এর মধ্যে গণিত অলিম্পিয়াড অন্যতম। করোনার কারণে সর্বশেষ প্রাথমিক স্তরে অ্যাসাইনমেন্ট ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কয়েক বছরে ৫ শতাধিক স্কুল ও কলেজ সরকারি করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় দুটি করে স্কুল এবং দুটি করে কলেজ সরকারি করার কাজ চলছে। ২০১৯ সালে দুই হাজার ৭৩৬টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে।

তবে শিক্ষার্থীদের হাতে বছরের প্রথম দিন বিন্যামূল্যে পাঠ্যবই পৌঁছানোটাই সরকারের বড় সফলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারিগরি শিক্ষা ৫০ শতাংশ এনরোলমেন্টে উন্নীত করার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

২০১০ সালে আইন প্রণয়ন করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যলয় স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১০৭টি। নতুন করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। কৃষিসহ বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় স্থপন করা হয়েছে।

২০২০ সাল থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৬৪০টি মাধ্যমিক স্কুলে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ২০২১ সাল থেকে মাধ্যমিকের সব ক্লাসে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রেডিং সিস্টেমে সমন্বয় কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও শিগগিরই তা বাস্তবায়ন করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিং প্রতিরোধে অ্যান্টি বুলিং বিধিমালা, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কর্নার’ চালু, ধারাবাহিক মূল্যায়নে পাইলটিং, ২০২০ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে তিনটি বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু, ২০ শতাংশ নম্বর ধারাবাহিক মূল্যায়ন চালু-এ সবও করা হয়েছে। ২০ হাজার স্কুলে সরবরাহ করা হয়েছে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামাদি।

কওমি মাদ্রসার পাঠ্যসূচিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়ানোর উদ্যোগও বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের আমিষের ঘাটতি মেটাতে পরিপত্র জারি, মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্বাস্থ্য-পুষ্টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও বাড়ানো হয়েছে।   

রি-প্রোডাকটিভ হেলথ ও জেন্ডার ইকুইটি বিষয়ে সব স্কুলে কার্যক্রম চালু হয়েছে। বিশেষ করে পারিবারিক ও মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিতে সব স্কুলে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এক দশকে এনরোলমেন্ট বৃদ্ধির সঙ্গে নারী-শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ উল্লেখ্যযোগ হারে বেড়েছে। পাবলিক পরীক্ষায় নারী শিক্ষার্থীরা এই সময়ে অপেক্ষাকৃত ভালো ফলও করেছে।

এত এত অর্জনের পরও শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে বাংলাদেশে। ১৯৭৩ সালে ড. কুদরত-ই-খোদা শিক্ষা কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এখনও সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বাস্তবায়ন শুরু হলেও গত কয়েক বছরে এর কোনও অগ্রগতি নেই।

তবে ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন হয়। এর কিছু অংশ বাস্তবায়ন হলেও শিক্ষানীতিটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

শিক্ষায় নানা অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে দশ বছর আগে শিক্ষা আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনও হয়নি। তবে সম্প্রতি শিক্ষা আইনের খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।


যোগাযোগ: ৪৪৬ (৪র্থ তলা), নয়াপাড়া, ধনিয়া, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা-১২৩৬
মোবাইল:
ইমেইল: sangbadprotidinnews24@gmail.com