1746

09/20/2021 স্বাস্থ্যের ডিজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ সংসদীয় কমিটির

স্বাস্থ্যের ডিজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ সংসদীয় কমিটির

নিজস্ব প্রতিবেদক:

২১ জুন ২০২১ ০০:০২

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে এ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি। 

রোববার (২০ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।

সংসদীয় কমিটির একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না শর্তে জানান, বৈঠকে অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা ছিল। কিন্তু ডিজি বৈঠকে আসেননি। গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে ডিজি না আসায় সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন। কমিটির সভাপতি এ নিয়ে ডিজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তবে সংসদ অধিবেশনে বিষয়টি নিয়ে আসা হতে পারে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, কোভিড-১৯ মহামারি শুরুর পর এ পর্যন্ত কত টাকার মাস্ক ও কিট ক্রয় করা হয়েছে, ভ্যাকসিন সংকট মোকাবিলায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, ভ্যাকসিন জিটুজি নাকি এজেন্টের মাধ্যমে আনা হচ্ছে, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় আইসিউ ও অক্সিজেনের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাব্য সংকট থেকে উত্তরণ নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিস্তারিত এই আলোচনায় ডিজি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কমিটি।

কমিটির সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, স্বাস্থ্যের ডিজি বৈঠকে না আসায় তারা নাখোশ হয়েছেন। বিষয়টি কমিটির সভাপতি বিস্তারিত বলতে পারবেন।

জানা গেছে, বৈঠকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা’ এখনও না পৌঁছানোয় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। কমিটি সহজতর প্রক্রিয়ায় যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে তাদের পরিবারের কাছে প্রণোদনার অর্থ পৌঁছানোর সুপারিশ করেছে।

কমিটির সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, অনেকে আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে যে, তারা প্রণোদনা পাননি। অনেক ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এই মানুষগুলো মারা গেছে। তাদের পরিবার নিঃস্ব। তারা যদি প্রণোদনা ঠিকমত না পায় পরিবার কষ্টে থাকছে। আমরা মন্ত্রণালয়কে বলেছি দ্রুত এই প্রণোদনা যাতে সংশ্লিষ্টদের পরিবারের কাছে পৌঁছায়।

কমিটি বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ডের গবেষক সানজান কে দাস স্বাস্থ্য সচিবের কাছে সরকারি পর্যায়ে টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যে অবকাঠামো তৈরি করতে একটি প্রস্তাব পাঠান। সানজান দাসের টিকা তৈরির প্রযুক্তির আরএনডি ও প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়েছে বলে কার্যপত্রে বলা হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস বিদ্যমান কিছু অবকাঠামো এবং নতুন কিছু যন্ত্রপাতি কিনলে টিকা উৎপাদন সম্ভব বলে কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টির কারিগরি দিক পর্যালোচনার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় বিবেচনা করছে।

সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে দেশের সব জনগণকে টিকার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে টিকা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

কমিটির আগের বৈঠকে করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির জন্য দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে ‘উৎসাহ’ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। ওই সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় জানায়, তিনটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের টিকা তৈরির সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। এগুলো হলো- ইনসেপটা ভ্যাকসিন লিমিটেড, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস, হেলফ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। এরমধ্যে ইনসেপটার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন রেডি টু ফিল ও মাস্টার সিড উভয় প্রক্রিয়ার সক্ষমতা রয়েছে। পপুলারের মাস্টার সিড থেকে উৎপাদনের সক্ষমতা নেই। হেলফ কেয়ার অনুমোদন পেয়েছে তবে এখনও উৎপাদনে যায়নি।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে- কোভিড-১৯ সংক্রমণের পর থেকে ৭ জুন পর্যন্ত সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপো (সিএসডি) এর মাধ্যমে ২৬৬ কোটি ১৭ লাখ ২৪ হাজার টাকার মাস্ক এবং ৪০১ কোটি ২৫ লাখ টাকার আরটি-পিসিআর টেস্ট কিট কেনা হয়েছে। এছাড়া কোভিড-১৯ ইমারজেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস প্রকল্পের আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩৯ কোটি ৯ লাখ ২২ হাজার টাকার মাস্ক, ৩৫ কোটি ৮০ লাখ ৩১ হাজার টাকার আরটিপিসিআর কিট এবং কোভিড রেসপন্সে ইমারজেন্সি অ্যাসিসস্টেন্ট প্রকল্পের আওতায় ইউনিসেফের মাধ্যমে ৩২ কোটি ৯০ লাখ ৭২ হাজার টাকার কিট কেনা হয়েছে।

এতে বলা হয়- ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে ৩ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন কেনার চুক্তি হয়। এর মধ্যে ৭০ লাখ ডোজ পাওয়া গেছে। গত ৭ জুন পর্যন্ত ৫৮ লাখ ২০ হাজার ১৫ জনকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজ এবং ৪২ লাখ ২৩ হাজার ১৭৮ জনকে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন করার জন্য ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৩০টি টিকা ঘাটতি রয়েছে।

কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য সারা দেশে এক হাজার ১২৫টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালে ৪৬৬ শয্যা আছে। ঢাকা মহানগর ছাড়া দেশের ২১টি জেলায় আইসিইউ শয্যা আছে। কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য ১১ হাজার ৯১৬টি সাধারণ বেড রয়েছে। ঢাকা মহানগরে এক হাজার ৫০১টি বেড বাড়ানো হয়েছে। দেশে বর্তমানে কোনো অক্সিজেন সংকট নেই। মজুদ অক্সিজেন ৯০০ মেট্রিক টন। প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১৭৫ মেট্রিক টন। সরকারি অর্থায়নে ৪০টি ও দাতা সংস্থার ফান্ডে ২৯টি অক্সিজেন প্লান কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ২৩ হাজার ৮৯টি। হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার সংখ্যা এক হাজার ৬০৩টি। অক্সিজেন কনসেনট্রেটরের সংখ্যা এক হাজার ৫২২টি। 

এদিকে বৈঠকে তথ্য বিভ্রান্তি এড়াতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য দেওয়া ও পর্যালোচনা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেওয়ার লক্ষ্যে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়। বৈঠকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়।

শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরো অংশ নেন কমিটির সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, আফম রুহুল হক, মো. আব্দুল আজিজ, সৈয়দা জাকিয়া নুর, রাহগির আলমাহি এরশাদ (সাদ এরশাদ) এবং মো. আমিরুল আলম মিলন। 


যোগাযোগ: ৪৪৬ (৪র্থ তলা), নয়াপাড়া, ধনিয়া, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা-১২৩৬
মোবাইল:
ইমেইল: sangbadprotidinnews24@gmail.com