ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ৯ আষাঢ় ১৪২৮

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র: ৫০ বছরের সংক্ষিপ্ত মূল্যায়ন

ফাহমিদুল হক | প্রকাশিত: ২৩ মার্চ ২০২১ ০২:৫৯; আপডেট: ২৪ জুন ২০২১ ০৫:০৫

বাংলাদেশ স্বাধীনে হয়েছে ৫০ বছর হলো। বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে, দেশটির ইতিহাস ও রাজনীতিতে মুক্তিযুদ্ধ সব সময়ই এক বড় প্রসঙ্গ। মুক্তিযুদ্ধের মতো অতি-বৃহৎ এক ঘটনার যে বয়ান, স্বাভাবিক কারণেই তা আজও অসম্পূর্ণ, অনেক মৌখিক ইতিহাস আজও রচিত বা নথিভুক্ত হয়ে চলেছে, নতুন নতুন গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। আবার এক-ধাঁচের প্রাধান্যশীল বয়ানকে সবার জন্য অবশ্য গ্রহণীয় আকারে হাজির করার জোরাজুরিও প্রচলিত রয়েছে।

চলচ্চিত্র এমন এক মাধ্যম যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি সবচেয়ে বিশ্বস্ততার সঙ্গে দলিলভুক্ত হতে পারে, কারণ তা শ্রুতিচিত্রের মাধ্যমে ঘটনাকে জীবন্ত আকারে হাজির করে। এবং কিছু দূর অবধি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র তা করেছেও। কিন্তু অতৃপ্তি থেকেই গেছে। এই নিবন্ধে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের ওপরে একটি সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা হাজির করা হবে।

খুব বেশি চলচ্চিত্র নেই, যাতে ১৯৭১ সালের ঘটনাবলির প্রত্যক্ষ চিত্রায়ণ দেখা গেছে। প্রকরণের কারণে, প্রামাণ্যচিত্রগুলোই বিশ্বস্ততার সঙ্গে ঘটনাবলিকে সরাসরি ধারণ করে থাকে। জহির রায়হানের ‘স্টপ জেনোসাইড’ (১৯৭১) হলো এক্ষেত্রে অগ্রগণ্য প্রামাণ্যচিত্র। মুক্তিযুদ্ধের সাদাকালো এই প্রামাণ্য দলিল নির্মিত হওয়ার বহু বছর পর রঙিন মুদ্রণে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে হাজির হয়েছেন তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদ, তাদের ‘মুক্তির গান’ (১৯৯৫) চলচ্চিত্র নিয়ে। ‘স্টপ জেনোসাইড’–এর পর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্যচিত্র এটি। এই দুই নির্মাতা মার্কিন চলচ্চিত্রকার লিয়ার লেভিনের ফুটেজ আবিষ্কার করেন মুক্তিযুদ্ধের আড়াই দশক পরে এবং সেটার ভিত্তিতে নতুন এক প্রামাণ্যচিত্র তারা উপহার দেন। তবে বিদেশি কিছু নির্মাতা বা টিভি চ্যানেল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই বেশ কিছু প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ভারতীয় নির্মাতা এস. সুখদেবের ‘নাইন মান্থস টু ফ্রিডম’ (১৯৭২)।
 

দেশ স্বাধীন হয়ে যাবার পরপরই মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ চিত্র ধারণ করার আর সুযোগ থাকেনি। ফলে পরের প্রামাণ্যচিত্রগুলো নির্মিত হয়েছে মৌখিক ইতিহাসনির্ভর। এর বড় জায়গা জুড়ে থেকেছে বীরাঙ্গনাদের আত্মত্যাগ ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের কথা। এসব ছবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ইয়াসমিন কবিরের ‘স্বাধীনতা’ (২০০৩)। ফারজানা ববির ‘বিষকাঁটা’ (২০১৫) নারী-মুক্তিযোদ্ধাদের গল্প বলে। শবনম ফেরদৌসীর ‘জন্মসাথী’ (২০১৭) বীরাঙ্গনা ও যুদ্ধশিশু উভয় প্রসঙ্গই অন্তর্ভুক্ত করে। তানভীর মোকাম্মেল নির্মিত বায়োপিক তাজউদ্দীন আহমদ: নিঃসঙ্গ সারথী (২০০৭) মৌখিক ইতিহাসনির্ভর। তারেক ও ক্যাথরিন মাসুদের মৌখিক ইতিহাসনির্ভর ব্যতিক্রমী এক প্রামাণ্যচিত্র হলো মুক্তির কথা (১৯৯৬)। ‘মুক্তির গান’ দেশব্যাপী প্রদর্শনের সময় সাধারণ মানুষ দাবি করে যে ওই চিত্রে তাদের কথা নেই। তাদের কথার ভিত্তিতে, এক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করতে গিয়ে, ফিল্ম ইউনিট নির্মাণ শুরু করেন আরেক প্রামাণ্যচিত্র, যাতে উঠে আসে কৃষক, নারী, আদিবাসীসহ সব সাধারণ মানুষের যুদ্ধে অংশগ্রহণের কথা। মুক্তিযুদ্ধ যে এক জনযুদ্ধ ছিল, কেবলই প্রাধান্যশীল শহুরে মধ্যবিত্তের ব্যাপার ছিল না, ‘মুক্তির কথা’য় তা উঠে আসে।

প্রামাণ্যচিত্র যদি মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ দলিল হয়ে থাকে, তবে কাহিনিচিত্র হলো কল্পনা ও আকাঙ্ক্ষার মিশেলে মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে নির্মাতাদের আবেগগত বন্দনাবিশেষ। তবে ক্ষেত্রবিশেষে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র হয়ে উঠেছে নির্মাতার রাজনৈতিক অবস্থানও। স্বাধীনতা অর্জনের পরপরই বেশ কয়েকটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। ‘ওরা ১১ জন’-এ (১৯৭২, চাষী নজরুল ইসলাম) মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাথা বর্ণিত হয়। অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষীতে (১৯৭২, সুভাষ দত্ত) দ্বিধাগ্রস্ত ও ভীতু এক অভিনেতার যুদ্ধে অংশ না নিতে পারার টানাপড়েন চিত্রায়িত হয়। ‘ধীরে বহে মেঘনা’তে (১৯৭৩, আলমগীর কবির) বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশের প্রতিনিধি এক নারীর দৃষ্টিতে মুক্তিযুদ্ধ হাজির হয়, নতুন দেশটিতে এসে ভারতীয় নারীটির দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে থাকে। ‘আবার তোরা মানুষ হ’-তে (১৯৭৩, খান আতাউর রহমান) হতাশ মুক্তিযোদ্ধাদের বেআইনি কাজে জড়িয়ে পড়ার পরিবর্তে সঠিক পথে থাকার আহ্বান জানানো হয়। ‘মেঘের অনেক রঙ’-এ (১৯৭৬, হারুন-অর-রশীদ) দেখা গেছে যুদ্ধের কারণে কীভাবে এক শিশুর জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

যুদ্ধ শেষ হবার পরপরই যে চলচ্চিত্রগুলো নির্মিত হয়েছে, তাতে বিষয়ের বৈচিত্র্য লক্ষ করার মতো। তবে প্রথম দিককার এই সব চলচ্চিত্রে একটি সীমাবদ্ধত ছিল যে, প্রায় সব চলচ্চিত্রেই নারীকে অসহায় হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী দ্বারা ধর্ষণের ঘটনাগুলোকে কখনও লজ্জা বা ‘ইজ্জত হারানো’ হিসেবে দেখানো হয়েছে, কখনও বাণিজ্যিক উদ্দেশে ব্যবহার করা হয়েছে। সেটা নিম্নমানের ছবি ‘বাঘা বাঙ্গালী’র (১৯৭২, আনন্দ) জন্য যেমন সত্য, তেমনি ওপরে উল্লেখ করা বেশিরভাগ উন্নত চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। মুক্তিযোদ্ধা নারীর প্রসঙ্গটি কোনও চলচ্চিত্রেই আসেনি।

১৯৭৫ সালে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান নির্মম হত্যার শিকার হন। মুক্তিযুদ্ধ যে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাম্যের চেতনার ভিত্তিতে সংগঠিত হয়, তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তাও যেন নির্বাপিত হয়। এরপর থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সামরিক শাসনের অধীনে ছিল। সঙ্গে ধর্মীয় রাজনীতি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পেতে থাকে। মূলত ১৯৪৭-পূর্ব পাকিস্তান আন্দোলনের ধর্মভিত্তিক রাজনীতির নিকৃষ্ট রূপ স্বাধীনতার পরে আবার ফিরে আসে। এর প্রভাব পড়ে চলচ্চিত্র কারখানায়। আরব্য রজনীর কাহিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে স্থান পেতে থাকে, চলচ্চিত্রের শিরোনাম হতে থাকে ‘হুর-এ-আরব’, ‘বুলবুল-এ-বাগদাদ’ ইত্যাদি। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের সংখ্যা একেবারে কমে যায়। ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত মাত্র ‘কলমীলতা’ (১৯৮১, শহীদুল হক খান) নামের একটিমাত্র চলচ্চিত্রের সন্ধান পাওয়া যায়।

তবে মূলধারার চলচ্চিত্র কারখানার বাইরে আশির দশকের মধ্যভাগে স্বাধীনধারায় চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু হয়। চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের কর্মীরাই মূলত সুস্থ ও শিল্পপ্রয়াসী চলচ্চিত্র নির্মাণের অঙ্গীকার থেকে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে তারা অনেকে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগামী’ (১৯৮৪, মোরশেদুল ইসলাম) মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে রাজাকারদের পুনর্বাসন ও মুক্তিযোদ্ধাদের অসহায়ত্বের কাহিনি বর্ণনা করে। দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘হুলিয়া’ (১৯৮৪, তানভীর মোকাম্মেল) মুক্তিযুদ্ধপূর্ব সময়ে বামপন্থী এক রাজনৈতিক কর্মীর গল্প বলে। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের নির্মাতা তানভীর মোকাম্মেল, মোরশেদুল ইসলাম ও তারেক মাসুদ পরে বহু পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন এবং বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে একটি উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এরা প্রত্যেকেই পরে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বেশ কয়েকটি করে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’ (২০০২), তানভীর মোকাম্মেলের ‘নদীর নাম মধুমতি’ (১৯৯৫), মোরশেদুল ইসলামের ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ (২০১১) এক্ষেত্রে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র। শামীম আখতারের ‘শিলালিপি’ও (২০০২) একটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র, যা মূলত মুক্তিযুদ্ধকালীন সাংবাদিক সেলিনা পারভীনের বায়োপিক।

ঢাকা শহরে গেরিলা অপারেশননির্ভর চলচ্চিত্র হলো হুমায়ূন আহমেদের ‘আগুনের পরশমনি’ (১৯৯৪) ও নাসিরউদ্দিন ইউসুফের ‘গেরিলা’ (২০১১)। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণে পলায়নপর মানুষদের কাহিনি হলো ‘শ্যামল ছায়া’ (২০০৪, হুমায়ূন আহমেদ) ও ‘জয়যাত্রা’ (২০০৪, তৌকীর আহমেদ)। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অত্যাচারের মুখে সাধারণ কলেজ শিক্ষকের প্রতিবাদী হয়ে ওঠা গল্প হলো ‘মেঘমল্লার’ (২০১৫, জাহিদুর রহিম অঞ্জন)।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রগুলোর একটি সীমাবদ্ধতা হলো এগুলো প্রাধান্যশীল বয়ানকে হাজির করে– পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মমতা, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ ও বীরত্ব, রাজাকার বাহিনীর যুদ্ধাপরাধ ও পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা, নারীর ‘ইজ্জত হারানো’ ইত্যাদি বিষয়ই ঘুরেফিরে এসেছে এসব চলচ্চিত্রে।

শহুরে বা গ্রামীণ মধ্যবিত্তের কথাই ঘুরেফিরে এসেছে এবং প্রায় অনুপস্থিত থেকেছে ওই প্রসঙ্গ যে, এটা একটা জনযুদ্ধ ছিল। ১৯৯০ সালে গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার হলে, ধীরে ধীরে আবার মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মাণ হতে থাকে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার প্রায় দুই দশক পরে ক্ষমতায় এলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ গতি পায়। তবে এই পর্যায়ে এসে মুক্তিযুদ্ধের প্রাধান্যশীল বয়ানের মধ্যে চলচ্চিত্রগুলো সীমিত হয়ে পড়ে। স্বাধীনতার পরপর মুক্তিযুদ্ধের নানান দিক নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে, ওপরে তার কিছুটা উল্লেখ করা হয়েছে। তুলনায় এই পর্যায়ের চলচ্চিত্রগুলো বিষয়বস্তুতে খানিকটা ক্লিশে হয়ে পড়ে।

এই সময়ের চলচ্চিত্রে রাজাকার চরিত্রমাত্রই ইসলামি বেশবাসে মোড়া থাকতো, এর মধ্য দিয়ে প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধপন্থী নির্মাতারা জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি বারবার হাজির করেছেন এবং মুসলমান আত্মপরিচয়ের বিপরীতে বাঙালি আত্মপরিচয়ের বিষয়টি বড় করতে চেয়েছেন। এভাবে তৎকালীন রাজনীতিতে তাদের অবস্থান তারা ঘোষণা করেছেন। তবে নতুন শতাব্দীতে নাইন-ইলেভেন ঘটনার পর আফগানিস্তান-ইরাকে হামলা হলে, বৈশ্বিকভাবেই মুসলিম আত্মপরিচয়ের উত্থান ঘটে, তার অভিঘাতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রে দাড়ি-টুপিওয়ালা মানুষকেও মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে দেখা যায় (উদাহরণ শ্যামল ছায়া, মেঘের পর মেঘ ইত্যাদি)। ধার্মিকদের রাজাকার কিংবা মুক্তিযোদ্ধা চরিত্রে রূপায়ণের বিষয়টি সমসাময়িক আত্মপরিচয়ের রাজনীতি দ্বারা নির্ধারিত হয়েছে।

রুবাইয়াত হোসেন তার ‘মেহেরজান’ (২০১১) চলচ্চিত্রে বৈপ্লবিক একটি নিরীক্ষা করেন, মুক্তিযুদ্ধের কাহিনিতে। ‘লাভিং দ্য আদার’ ট্যাগলাইন ব্যবহার করে এই চলচ্চিত্রে দেখানো হয়, বাঙালি তরুণীর সঙ্গে পাকিস্তানি সৈনিকের প্রেম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এরকম শত্রুসৈন্যের সঙ্গে নারীর প্রেম কাহিনিনির্ভর বেশ কিছু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে বটে, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ, বিশেষত ঢাকাভিত্তিক প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধপন্থী লেখক-বুদ্ধিজীবী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টরা তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে, এবং প্রযোজকরা চলচ্চিত্রটিকে প্রেক্ষাগৃহ থেকে উঠিয়ে নিতে বাধ্য হয়। তখনও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়নি, এবং পাকিস্তান রাষ্ট্র হিসেবে আজও বাংলাদেশের কাছে গণহত্যার জন্য ক্ষমা চায়নি। তাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ মানুষেরা এ ধরনের ভালোবাসার গল্প আজও গ্রহণে প্রস্তুত নয়, বরং পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণাই তাদের কাছে বেশি কাঙ্ক্ষিত।

একটি বিষয় লক্ষণীয়, আশির দশকে বেড়ে ওঠা নির্মাতারা (তানভীর, মোরশেদ, তারেক) যেমন চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধকে তুলে আনাকে তাদের শৈল্পিক মিশন হিসেবে নিয়েছিলেন, পরের প্রজন্মের নির্মাতাদের (ফারুকী, আতিক, অমিতাভ, কামার, রুবাইয়াত) মধ্যে ইতিহাসমুখিনতায় কম আগ্রহ রয়েছে; বরং সমসাময়িক ও বিশ্বায়নোত্তর বাংলাদেশের জটিল সব বিষয় নিয়ে তারা কাজ করতে আগ্রহী। দু’ক্ষেত্রেই ব্যাখ্যাযোগ্য কারণ রয়েছে, সেটি অন্য কোনও লেখায় আলাপ করতে হবে।

লেখক: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; চলচ্চিত্র সমালোচক




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top