ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯

পুলিশকে ফাঁকি দিলেই যেন করোনা থেকে রক্ষা পাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক: | প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২১ ১৯:১৮; আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২২ ০৯:২০

রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের যাতায়াতে নিয়ন্ত্রণ থাকলেও পাড়া-মহল্লায় যতক্ষণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা থাকছে, ততক্ষণ মানুষ ঘর থেকে কম বের হচ্ছে। পুলিশ এলাকা ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় নামে মানুষের ঢল। খুলে যাচ্ছে দোকানের শাটার। আবার কোনও কোনও এলাকায় এম দৃশ্য আরও ঢিলেঢালা।

তবে রাজধানীর কোনও কোনও এলাকায় মুদি দোকানের জন্য নির্ধারিত সময়েও দোকান খুলে রাখতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে কেনাবেচার সব কাজই চলছে শাটার নামিয়ে। আবার কোথাও কোথাও দেখা গেছে, চায়ের দোকানও খোলা। চলছে রাস্তায় যাতায়াত, চলছে আড্ডা। বিষয়টি এমন দাঁড়িয়েছে যে, পুলিশ না দেখলেই হলো, করোনাভাইরাস ঠেকাতে বাসায় থাকা মুখ্য ইস্যু না।

রাজধানীর ধানমন্ডি, আসাদগেট, মিরপুরের বেশ কয়েকটি দর্জি দোকান ঘুরে দেখা যায়, কারিগররা ভেতরে কাজ করছেন, কিন্তু সামনে শাটার লাগানো। মাঝে মাঝে বের হয়ে খাবার আনেন কেউ একজন। সকাল থেকে ৩টা পর্যন্ত শাটার খোলা থাকে, তারপর শাটার বন্ধ। সারা দেশ থেকে আসা খবরে জানা যাচ্ছে, বাজারের বেশিরভাগ দোকানে অর্ধেক শাটার খোলা বা তালা ঝুলিয়ে মালিক-কর্মচারীরা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকছেন। এরপর ক্রেতা বুঝে দোকানের ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে বিক্রি শেষে আবার তালা ঝুলাচ্ছেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। এমন পরিস্থিতিতে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করে ঘরে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু লকডাউনের তৃতীয় দিন থেকে শুরু হয় মানুষের অবাধ যাতায়াত। শুরুতে বের হতে হলে পুলিশের মুভমেন্ট পাস লাগবে বলা হলেও পঞ্চম দিন থেকে এসবের বালাই নেই। মানুষ আছে রাস্তায়-বাজারে, সবখানে। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষকে অন্তত ১৫ দিন ঘরে রাখতেই হবে।

এ পরিস্থিতিতে সোমবার (১৯ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চলমান লকডাউন বাড়িয়ে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। পরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য অফিসার সুরথ কুমার সরকার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ রোধকল্পে সার্বিক কার্যাবলি/চলাচলে বিধিনিষেধের বিষয়ে গত ১২ এপ্রিল একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। সেই প্রজ্ঞাপনে ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। সেটি আরও এক সপ্তাহ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ২২ এপ্রিল থেকে আরও  সাত দিন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সরকার সারা দেশে আরও এক সপ্তাহ সর্বাত্মক লকডাউন বাড়ানোর সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটির পরামর্শ ছিল লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ালে বর্তমান চেইনটা ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে এবং সংক্রমণ নিম্নগামী হবে। সেটা বিবেচনায় নিয়ে ২২ থেকে ২৮ পর্যন্ত লকডাউনের সময় বাড়িয়ে সারসংক্ষেপ তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে।

যখন কিনা এতগুলো বিষয় নিয়ে সরকার সংক্রমণ কমানোর উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে, তখন জনগণ বুঝতে চেষ্টা করছে না, সাবধান না হলে কী ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে। পুলিশ সদর দফতরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এআইজি সোহেল রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। অযথা বাইরে না বের হতে নির্দেশনা আছে। সেটা না মানলে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে।’




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top