ঢাকা রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৩ মাঘ ১৪২৯

সরকারের ভূমিকায় বিএনপিতে নীরব সন্তুষ্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক: | প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল ২০২১ ১০:২৪; আপডেট: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১৯:২১

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত খালেদা জিয়ার চলমান চিকিৎসা নিয়ে হঠাৎই নড়েচড়ে বসেছে পুরো বিএনপি। দলীয় প্রধানের জন্য মেডিক্যাল টিম গঠন, ঘণ্টায় ঘণ্টায় আপডেট, দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে চলমান এই কার্যক্রমে আরও একটি বিষয় নিয়ে দলের নীতিনির্ধারকরা সন্তুষ্ট। আর তা হচ্ছে— খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে সরকারের ‘ইতিবাচক’ অবস্থান। যদিও রাজনৈতিক কারণে বিষয়টিকে দৃশ্যমান করতে অনিচ্ছুক বিএনপির সিনিয়র নেতারা। ইতোমধ্যে ঘরোয়াভাবে বিষয়টি নিয়ে তারা আগ্রহোদ্দীপক আলোচনা সেরেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য ও চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের একাধিক দায়িত্বশীলের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানা গেছে।

১১ এপ্রিল করোনা টেস্ট পজিটিভ আসে খালেদা জিয়ার। এর আগে থেকেই বিএনপির নীতিনির্ধারক ও তার পরিবারের সদস্যরা মিলে চিকিৎসার বিষয়টি পরিকল্পনা করছিলেন। পরদিন অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি টিম খালেদা জিয়াকে দেখতে যান তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায়। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের তারা জানান, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি স্থিতিশীল। একইসঙ্গে তারা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে। এরপর ১৫ এপ্রিল ডা. এফ এম সিদ্দিকী জানান, করোনা আক্রান্ত হিসেবে দ্বিতীয় সপ্তাহ খুব জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তারা খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওই সিদ্ধান্ত জানানোর পর রাতেই এভার কেয়ারে সিটি স্ক্যান করান বিএনপি প্রধান। সেই পরীক্ষার রিপোর্ট বৃহস্পতিবার (১৫  এপ্রিল) মধ্যরাতে হাতে পাওয়া মাত্রই চিকিৎসকরা আবারও পর্যালোচনা শুরু করেন এবং নতুন ওষুধ যুক্ত করেন।

 

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, বৃহস্পতিবার রাতে খালেদা জিয়াকে এভার কেয়ারে নেওয়ার বিষয়টি বিএনপির পক্ষ থেকে   প্রকাশ্যে আসার পর থেকে সরকারের আচরণ দলটির সিনিয়র নেতারা পুরোপুরি পর্যবেক্ষণ করেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতামূলক তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। সরকারের নেতিবাচক আচরণ না থাকা ও চিকিৎসার বিষয়ে ইতবাচক থাকার বিষয়টিও বিএনপির উচ্চপর্যায়ে প্রভাব রেখেছে। তবে ১১ এপ্রিল দল ও পরিবারের আলোচনার আগে করোনা টেস্টের সরকারি কাগজটি প্রকাশ্যে আসায় নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বিরক্তি তৈরি হয়েছে বলেও সূত্রের দাবি।

 

এ বিষয়ে স্থায়ী কমিটির একজন সদস্যের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের এ বিষয়টাতে চুপ থাকাই বেটার। রাজনৈতিকভাবে আমাদের দেশের সংস্কৃতি ‘ভালোকে ভালো বলা, খারাপকে খারাপ বলা’ যায় না। সে কারণে প্রকাশ্যে মত দেওয়া সম্ভব না। পার্টি লেবেলে এটা সহনীয় নয়।’

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকারের সদিচ্ছা না থাকলে সুন্দর চিকিৎসা হয় কখনও! আমাদের এই বিনাভোটের সরকারের পলিসি যাই হোক, তার যে অ্যাক্টিং, সেটা প্রশ্নবোধক না।’

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের মার্চে যখন শর্তসাপেক্ষে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করে খালেদা জিয়ার পরিবার, ওই সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন— খালেদা জিয়া চাইলে দেশের ভেতরে কোনও হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন।

বিএনপিতে চাঞ্চল্য 

এদিকে দীর্ঘদিন পর খালেদা জিয়াকে প্রকাশ্যে দেখায় দেশে-বিদেশে নেতাকর্মী ও অনুসারীদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নেতাকর্মীদের অধিকাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেত্রীর সুস্বাস্থ্য কামনায় প্রার্থনা প্রচার করেছেন। একইসঙ্গে গত কয়েকদিন ধরে বিএনপি ও দলটির অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বিশেষ প্রার্থনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দলীয় প্রধানের অসুস্থতার কারণে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকলেও দলের হাইকমান্ড ও পরিবারের সতর্ক ব্যবস্থার কারণে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা অনেকটাই দূর হয়েছে। সার্বিক উদ্যোগ আর বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) রাতে খালেদা জিয়াকে প্রকাশ্যে দেখে নেতাকর্মীদের মধ্যেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার রাতে সিটি স্ক্যান করার পর বাসায় ফেরার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান। কেমন দেখেছেন খালেদা জিয়াকে, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়ার যে বৈশিষ্ট, ওই বৈশিষ্ট পরিস্ফূটিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে যখন সিটি স্ক্যান করে বাসায় ফেরেন, তখন তিনি উপস্থিত কয়েকজনকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাকে মানসিকভাবেও দৃঢ় দেখেছি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে সবাইকে সাবধানে থাকতে বলেছেন তিনি।’

শায়রুল কবির খান বলেন, মানসিকভাবে দেশনেত্রীর যে বৈশিষ্ট, ওই বৈশিষ্ট আছে। মনোবল সবল, মানসিক অবস্থা দৃঢ় দেখেছি। সবাইকে বলেছেন, সাবধানে থাকতে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘সবাইকে সাবধানে চলতে বলবা।’




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top