ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯

শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক: | প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০২১ ১৭:৫৫; আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২২ ০৭:৫০

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকরা।

শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ নিগৃহীত অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক পরিষদের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনার সময় শিক্ষকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাই দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে বঞ্চিত শিক্ষকদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য গত ১৩ এপ্রিল  শিক্ষামন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ নিগৃহীত অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. মনিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মিল্টন মণ্ডলের সই করা  স্মারকলিপি শিক্ষামন্ত্রীকে দেন তারা। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক ‘শিক্ষা দিবস ২০২১’ এবং গত ২৪ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন, ‘এমপিওভুক্ত বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স স্তর উঠিয়ে দিলেও বিধি অনুযায়ী, নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের কারও চাকরি যাবে না, বঞ্চিত হবেন না। চালু করা শর্ট কোর্স পড়াবেন বা প্রশিক্ষণ দেবেন তারা।’

 

শিক্ষামন্ত্রী এই আশ্বাস দিলেও ২০২১ সালের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি অনার্স-মাস্টার্স স্তর। ফলে আগের অবস্থানেই রয়েছেন শিক্ষকরা। 

ডিগ্রিস্তর পর্যন্ত পারিচালিত এমপিওভুক্ত কলেজগুলোতে ১৯৯৩ সালে অনার্স-মাস্টার্সের অনুমোদন দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ বিধিবিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত স্কেলে শিক্ষকদের মূল বেতন দেওয়ার শর্তে অনার্স-মাস্টার্সের বিষয় অনুমোদন নিলেও বিগত ২৯ বছর ধরে বঞ্চিত হয়ে আসেছেন অনার্স ও মাস্টার্স স্তরের শিক্ষকরা। আর জনবল কাঠামোতে না থাকায় এমপিওভুক্ত করা হয়নি তাদের। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৯ সাল থেকেই অনার্স-মাস্টার্স স্তরের অনুমোদন বন্ধ করে দিয়েছে। চলতি বছর শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, যেসব জায়গায় বেসরকারি কলেজে অনার্স-মাস্টার্স রয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর থেকে হতাশায় পড়েন প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষক।

এ নিয়ে শিক্ষকরা করোনার মধ্যেও আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেন এমপ্রিভুক্তির জন্য। শিক্ষকদের আবেদনের পর শিক্ষামন্ত্রী চাকরি যাবে না আশ্বাস দেন।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, ‘এমপিওভুক্ত বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স স্তর ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিগগিরই একটি কমিটি এ বিষয়ে কাজ শুরু করবে। মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষকদের আর্ধিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সার্বিক পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এ সবের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ এপ্রিল শিক্ষামন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়ে দ্রুত প্রতিশ্রুতি বাস্তায়নের আহ্বান জানান শিক্ষকরা।  স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের ৩১৫টি বেসরকারি কলেজের অনার্স স্তরের শিক্ষকদের সামান্য কিছু অর্থ মাঝেমধ্যে দেওয়া হতো। করোনার কারণে সেটাও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সাড়ে ৫ হাজার শিক্ষক তাদের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্মারকিলিপিতে দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে অভিশপ্ত সাড়ে ৫ হাজার শিক্ষকদের সদ্য প্রকাশিত জনবল কাঠামোতে সংশোধনী এনে অন্তর্ভুক্ত করা, কিংবা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ক্ষমতায় শিক্ষকদের অর্থনৈতিক মুক্তির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top