ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

হেফাজতের মিটিং-মিছিল করাটাকে সমর্থন করি : জাফরুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক: | প্রকাশিত: ৫ এপ্রিল ২০২১ ১৫:১৪; আপডেট: ৯ ডিসেম্বর ২০২১ ০৪:৪৯

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, ‘তাদের (হেফাজত) মিটিং-মিছিল করাটাকে সমর্থন করি। এটা তাদের মৌলিক অধিকার। কিন্তু হেফাজতের হরতাল ও বিক্ষোভের দিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনায় তৃতীয় রাষ্ট্রের ইন্ধন রয়েছে।’

সোমবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংঘটিত হত্যা ও ধ্বংসাত্মক ঘটনার সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য ঢাকা থেকে ১৪ সদস্যবিশিষ্ট টিম গত ৩ এপ্রিল সেখানে সফর করেন। ঘটনার প্রত্যক্ষ বিবরণ তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমরা ১৪ সদস্যের একটি টিম ঘটনার স্থান পরিদর্শন করি। সেখানে স্থানীয় জনগণ, আওয়ামী লীগ, পুলিশ ও হেফাজতের বক্তব্য শুনেছি এবং দেখেছি। শুনে এবং দেখে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, এই হামলার সঙ্গে তৃতীয় রাষ্ট্রের ইন্ধন রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘রেল স্টেশনে আগুনের ঘটনা সাত দিন আগে ঘটলেও ৩ এপ্রিল আমরা সেখানে গিয়ে দেখেছি আগুন জ্বলছে। এটা কেন? এটা কাকে দেখাতে চান। তাহলে এটা কি হেফাজতে ইসলাম নাকি অন্য কোনো তৃতীয় রাষ্ট্র এখানে জড়িত?’

‘রাজনীতি এখন আমলা ও ব্যবসায়ীদের হাতে চলে গেছে’ উল্লেখ করে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘রাজনীতি রাজনীতিবিদদের করতে দেন। সেখানকার এমপি একজন আমলা, তার কোনো রাজনৈতিক কর্মী নেই। তার রয়েছে পুলিশ ও হেলমেট বাহিনী।’

সংবাদ সম্মেলনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। সেগুলো হলো- হেফাজতের হরতাল ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নিহত-আহতদের তালিকা প্রকাশ করে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত, সঠিক বিচার ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া। বায়তুল মোকাররম থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত পুরো ঘটনার বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করা। তদন্ত কমিটিতে নাগরিকদের বিভিন্ন পক্ষের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। একই সঙ্গে অজ্ঞাতনামা হিসেবে ২০ হাজারের অধিক মানুষের নামে যে মামলা দেওয়া হয়েছে এ হয়রানি বন্ধ করা।

গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘মানুষ এখন কথা বলতে পারে না। অজ্ঞাতনামা দিয়ে মানুষকে আটকানোর সুযোগ হয়েছে। সবাইকে এই ধরনের অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একটি শিশু শরীরে গুলিবিদ্ধ অথচ চিকিৎসা নিতে যেতে পারছে না। এই ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপিকা দিলারা চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফত, রাষ্ট্রচিন্তার অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, গণস্বাস্থ্যের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, নারীর জন্য সুশাসনের নির্বাহী পরিচালক রুবী আমানউল্লাহ, পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী মু. ইনামুল হক ও ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান প্রমুখ।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top