ঢাকা সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২, ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

নেত্রীর নির্দেশের বাইরে হামলায় জড়ালে শাস্তি হবে: কাদেরের হুঁশিয়ারি

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৬:৫১; আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৬:৫৪

 

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির কর্মসূচিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগের মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্য।

বিএনপির ওপর হামলার কোনো নির্দেশনা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ‘দেয়নি’ জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দলের কথার বাইরে গিয়ে কেউ হামলায় জড়িয়ে গেলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির কর্মসূচিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগের মধ্যেই ওবায়দুল কাদেরের এমন মন্তব্য এল।

কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে বিএনপি নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ-মারামারিতে ছড়াচ্ছে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বিএনপি বলছে কুমিল্লায় ও ঢাকায় হামলা হয়েছে... কিন্তু গতকাল বরিশালে আর চট্টগ্রামে মারামারি করেছে কারা? বরিশালে তারা নিজেরা নিজেদের ওপর হামলা করেছে, চট্টগ্রামেও চেয়ার ছোড়াছুড়ি করেছে।

এসব ঘটনা ঠিকভাবে সংবাদমাধ্যমে আসছে না মন্তব্য করে সরকারের সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, “এটা মাত্র একটা কাগজে দেখেছি। তাদের নেগেটিভ নিউজও ছাপে না অনেকে। বলতে চায় না। কেন, জানি না। বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখছি আমরা।"

সংঘাতের জন্য বিএনপিকে দায়ী করার পাশাপাশি নিজের দলের কর্মীদেরও সতর্ক করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, “নেত্রীর নির্দেশনার বাইরে কেউ যদি এসব হামলা জড়িয়ে পড়েন, আমরা কিন্তু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেব। আমরা কাউকে ছাড় দেব না। এখানে কেন্দ্রের কোনো নির্দেশ নেই।

“বিচ্ছিন্নভাবে এখানে-ওখানে দুয়েকটা ঘটনা ঘটিয়ে আজকে সরকারের দুর্নাম, আওয়ামী লীগের দুর্নাম। এগুলো যারা করবে সহ্য করা হবে না। আর এইটার সুযোগ নিয়ে তারা আমাদের অপবাদ দেবে।”

গত কিছু দিনে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠকের দিতে ইংগিত করে কাদের বলেন, “সকালে ঘুম থেকে উঠে চলে যায় বিভিন্ন দূতাবাসে। গিয়ে নালিশ। বিএনপির আরেক নাম বাংলাদেশ নালিশ পার্টি। দেশের মানুষের কাছে যতটা না করে, তার চেয়ে বেশি বিদেশিদের কাছে।”

একাত্তরে এদেশের মানুষের ওপর গণহত্যা-ধর্ষণ চালিয়েছে যে পাকিস্তান, তাদের প্রতি বিএনপির এতো ‘পেয়ার’ কেন, সেই প্রশ্ন করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

তিনি বলেন, “তারা জানে না শেখ হাসিনা তা পিতা বঙ্গবন্ধুর মত, কখনো পিছপা হননা। কখনও পরাজয়, পরাভয় মানেন না। শেখ হাসিনা হার মানতে জানেন না। তিনি হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে।

“বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে যারা (বাংলাদেশকে) পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে নির্বাসনে পাঠাতে চেয়েছিল; তাদেরই প্রেতাত্মারা, তাদেরই দলের সেই সৈনিকরা, সেই দল বাংলাদেশকে আবারো পাকিস্তান বানাতে চায়। মির্জা ফখরুল মনের কথা গোপন রাখতে পারেননি। তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে এসেছে যে, ‘পাকিস্তান আমলে ভালো ছিলাম’।"

ওবায়দুল কাদের বলেন, “ফখরুল সাহেব, ‘কতো রবি জ্বলে রে, কেবা আখি মেলে রে।’ শুনেছি পাকিস্তান ফিরে পেতে চান। এই মুক্তিযুদ্ধের দেশে আমরা আমাদের প্রিয় জন্মভূমিকে পাকিস্তানপন্থিদের হাতে তুলে দেব না। এই শপথ আমাদের নেতৃবৃন্দ নিচ্ছি।

“আবার বলে পাকিস্তানের নাম শুনলেই আওয়ামী লীগের গাত্রদাহ হয়। হ্যাঁ গাত্রদাহ হয়। গাত্রদাহ তো হবেই, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করে আমি স্বাধীন। আমার গাত্রদাহ হবে না?”

পাকিস্তান  যে ৫০ বছর পরও বাংলাদেশে গণহত্যার জন্য ক্ষমা চায়নি, সে কথা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, “তারা স্যরি বলতে জানে না। সেই পাকিস্তানের প্রতি আপনার এত পেয়ার কেন? জানতে পারি কি? তাহলে তো এটাই সত্য, একাত্তরের প্রতিশোধ নিতেই জিয়াউর রহমান পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার মাস্টারমাইন্ড ছিল। সেটাই তো প্রমাণিত হয়। এই অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে।"

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, শিক্ষা ও মানবসম্পদক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খানসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top