ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই ২০২১, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮

দ্বিতীয় দিনেও যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক: | প্রকাশিত: ১ এপ্রিল ২০২১ ১৮:২৭; আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২১ ০৭:৫০

ইয়াছিন আরাফাত কাজ করেন পল্টনের একটি বেসরকারি কোম্পানিতে। থাকেন শনিরআখড়া এলাকায়। প্রতিদিন সকাল ৯টায় অফিসে যোগ দিতে হয় তার। গতকাল সরকার নির্দেশিত বর্ধিত ভাড়ায় অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলাচল শুরু করে। ওইদিন তিনি সাড়ে সাতটায় সড়কে এসে পরিবহনে ওঠার চেষ্টা করেন। তবে সময়মতো উঠতে পারেননি। প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর কাঙ্খিত বাসে উঠতে পারেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) দ্বিতীয় দিনটি তার জন্য হয়ে ওঠে আরও দুর্ভোগের। এদিন তিনি গতকালের অভিজ্ঞতায় সকাল সাতটায় শনিরআখড়া বাস স্টপেজে এসে দাঁড়ান। কিন্তু প্রতিটি বাসই স্টপেজে আসার আগেই যাত্রীতে ভরপুর। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি একটি বাসে উঠতে পেরেছেন।

 

 প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় ইয়াসিন আরাফাতের। তিনি বলেন, অতীতে কখনও এমন দুর্ভোগে পড়িনি। সরকার সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে এভাবে গণপরিবহন পরিচালনা করার যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তা অযৌক্তিক। সরকারের উচিত ছিল আগে প্রতিটি অফিস-আদালত এবং কর্মস্থলে অর্ধেক জনবল দিয়ে অফিস পরিচালনা নিশ্চিত করা।

 

তিনি আরও বলেন, এখন একটি বাসের নির্ধারিত যাত্রীর দুই জন বেশি নিলে মামলা করে দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারেরতো নির্দেশনা রয়েছে অর্ধেক জনবল দিয়ে অফিস পরিচালনা করার। যারা তা করছে না তাদের বিরুদ্ধেতো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান, বাসাবোর বাসিন্দা কাউসার হামিদ। তিনি কাজ করেন একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে। তিনি বলেন, আগে সরকারের উচিত কর্মক্ষেত্রে অর্ধেক জনবল নিশ্চিত করা। তারপর বাকি মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সুরক্ষিত করা। আমার মনে হচ্ছে করোনাই গণপরিবহন নিয়ে সরকারের কোনও সঠিক কর্ম পরিকল্পনা ছিল না। যদি থাকতো এভাবে যাত্রীদেরকে দুর্ভোগে পড়তে হতো না।

বুধবার সকাল থেকে সারাদেশে ৬০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়ায় অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহন শুরু করেন পরিবহন মালিকরা। সরকারি নির্দেশনায় আগামী দুই সপ্তাহ এ ব্যবস্থাপনায় যানবাহন চলবে। এ দুই দিন সকাল থেকে কোনও পরিবহনে অর্ধেক যাত্রীর বেশি পরিবহন করতে তেমন একটা দেখা যায়নি। ফলে হঠাৎ করে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন শুরু হওয়ায় অফিসগামী মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। এ সুযোগেই রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকসহ অন্যান্য পরিবহনগুলো অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগে একটি ৫৩ আসনের পরিবহনে তারা কমপক্ষে ৭০ জন করে যাত্রী পরিবহন করতেন। প্রতিটি আসনে বসিয়ে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি দাঁড়িয়েও যাত্রী পরিবহন করা হতো। কিন্তু বুধবার থেকে সেই ৫৩ আসনের পরিবহনে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে ২৬ জন করে। পরিবহন সেবা অর্ধেকে নেমে আসলেও যাত্রী কমেনি।

বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর খিলগাঁও, বাসাবো, রাজারবাগ, ফকিরাপুল, দৈনিক বাংলা, পল্টন, গুলিস্তান, কাকরাইল, শান্তিনগর, মৎস্যভবন, শাহবাগ, বাংলামোটর এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। পরিবহন চালকরা বলছেন, কর্মক্ষেত্রে মানুষের উপস্থিতি অর্ধেক নিশ্চিত হয়নি। যে কারণে গণপরিবহনের জন্য যাত্রীর চাহিদা আগের মতোই রয়েছে। কিন্তু আসন সংকুলান অর্ধেক।

এদিকে সময়মতো অফিস পৌঁছাতে বাসস্ট্যান্ডে এসেও বাসে উঠতে না পেরে রাজধানীর খিলক্ষেতে বিক্ষোভ করেছেন যাত্রীরা। বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ডে রাস্তা আটকে তারা বিক্ষোভ করেন।

যাত্রীরা বলেন, করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিআরটিএর পক্ষ থেকে জানানো হয় বাসে অর্ধেক সিট খালি রেখে বাস চলাচল করতে হবে। সেকারণে পরিবহনগুলো উত্তরা কিংবা গাজীপুর বাস স্টপেজ থেকে যাত্রী উঠিয়ে বাসের গেট বন্ধ করে অন্য গন্তব্যের দিকে রওনা হয়। এতে করে রাস্তায় থাকা যাত্রীরা আমরা পরিবহন সংকটে পড়েছি।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, সরকার বলেছে কর্মক্ষেত্র বা অফিস আদালতগুলো অর্ধেক জনবল দিয়ে পরিচালনা করতে হবে। আমার মনে হয় সেই সিদ্ধান্ত এখনও কেউ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এখনও পূর্ণ জনবল দিয়েই পরিচালিত হয়েছে। বেসকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর করবে তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। যে কারণে আজ যাত্রীদের এই দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। আমার মনে হয় অফিস আদালতগুলো অর্ধেক জনবল দিয়ে পরিচালনা শুরু করলে এই সমস্যাটি কেটে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সরকারের যেসব নির্দেশনা রয়েছে তা পুরোপুরিভাবে পালন করবো। কোনোভাবেই নির্দেশনা ভেঙে অতিরিক্তি যাত্রী পরিবহন করার কোনও সুযোগ নেই। যারা এই নির্দেশনা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন 'সবেমাত্র একটা সরকারি নির্দেশনা জারি হয়েছে। কিন্তু এটা কার্যকর করতে হলে তো একটা প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। এরমধ্যে একদিন ছিল সরকারি বন্ধ। আমি নিজেও অর্ধেক জনবল দিয়ে অফিস পরিচালনার জন্য আজ অর্ডার জারি করতে নির্দেশ দিতে পেরেছি।'

দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে বরে আশাবাদ জানান তিনি।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top