ঢাকা রবিবার, ২৯ মে ২০২২, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

মহিমান্বিত রজনীতে যুদ্ধ বন্ধসহ বৈশ্বিক শান্তি কামনা

বিশেষ প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২২ ০০:২৯; আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২২ ০০:২৯

মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল বরাত আজ। যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় শুক্রবার রাতে সারাদেশে পবিত্র শবে বরাত পালিত হচ্ছে। মুসলমানরা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে দিনটি পালন করে থাকেন।

গত দুইটি শবে বরাত কোভিড-১৯ এর কারণে ঘরে বসে এবাদত করেন মুসলমানরা। কিন্তু এবার মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ঢল নামে।

এই রাতে মুসলমানরা দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করেন। একই সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধসহ বৈশ্বিক শান্তি কামনা করেন। অনেকে রমজানে দ্রব্যমূল্যের অস্থিরতা থেকে মুক্তিও চান।

চকবাজারে ব্যবসায়ী জুয়েল আহমেদ ছেলে শাকিব আহমেদকে নিয়ে বায়তুল মোকাররম মসজিদে এসেছেন।

তিনি বলেন, আসরের নামাজ পড়ে মসজিদে এসেছি। ইফতারি করার জন্য বাসায় গিয়েছিলাম। আমার পূর্ব পুরুষ বাবা ও দাদারা পবিত্র রজনীতে বায়তুল মোকাররম মসজিদে আসতেন। নামাজ পড়তেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমিও নামাজ পড়েছি ও রোযা রেখেছি

শাকিব আহমেদ বলেন, আজকে নামাজ পড়বো। নামাজ পড়ে সবার জন্য দোয়া করবো। কোরআন পড়েছি। আমি আল্লাহর কাছে একটা জিনিস চাইবো আল্লাহ যেন সবাইকে সুখে ও শান্তিতে রাখেন। বর্তমানে যে যুদ্ধ চলছে এটা যেন বন্ধ হয়ে যায়। করোনা যেন চিরতরে চলে যায় এই কামনা করি। সবাই শান্তিতে থাকুক।

এদিকে অনেক ধর্মপ্রাণ মুসলমান মনে করেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের বিরূপ প্রভাব নিত্যপণ্যে পড়েছে। এজন্য রাশিয়া-ইউক্রেনের সংঘাতের অবসান চেয়েছেন তারা।

তাদের মধ্যে একজন হাজী শফিকুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি মগবাজার মধুবাগ থেকে বায়তুল মোকাররমে এসেছেন।

হাজী শফিকুল বলেন, দ্রব্যমূল্যে বৃদ্ধিতে জনজীবন অতিষ্ট। রাশিয়ার যুদ্ধের ফলেই প্রতিটা জিনিসের দাম বেড়েছে। যুদ্ধ থেমে যাক সব কিছু নিয়ন্ত্রণে আসুক এই কামনা করেছি।

বাদ মাগরিব মসজিদে ওয়াজ করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসান হক জিলানী। তিনি বলেন, এই রাত্রি হলো ফজিলতের রাত্রি, ইবাদতের রাত্রি।

এটা হালুয়া-রুটি খাওয়ার রাত্রি নয়। এ রাতে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষকে ভালোবাসতে হবে। এটা ফজিলতের রাত।

তিনি আরও বলেন, আজকের রাতে আল্লাহ আমাদের গুনা মাফ করে দেন। এই রাত্রিতে আমল করলে একটা বকরির যত চুল আছে তার তার থেকেও অনেক গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।

ওয়াজ মাহফিল শেষে বাদ এশা দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের জ্যেষ্ঠ পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান।

এছাড়া বাদ এশা ওয়াজ ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাদারীপুর শিবচরের জামেয়াতুল সুন্নাহ মাদরাসার মুহতামিম শায়খুল হাদিস আল্লামা নেয়ামতউল্লাহ ফরিদী।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top