ঢাকা শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ৮ শ্রাবণ ১৪২৮

হেফাজতে ইসলামের হরতালে তিনজনের মৃত্যু

সংবাদ প্রতিদিন | প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২১ ০৩:১৯; আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২১ ০৩:২৫

হরতালের সমর্থনে বায়তুল মোকাররম এলাকায় মিছিল করে হেফাজতে ইসলাম। ঢাকা, ২৮ মার্চছবি: তানভীর আহম্মেদ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ এবং এর জেরে সংঘর্ষের তৃতীয় দিনেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। হতাহতের প্রতিবাদে গতকাল রোববার হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে আরও উত্তাল ছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া। গতকাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।


এ নিয়ে তিন দিনের সহিংস বিক্ষোভে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ জন এবং হাটহাজারীতে ৪ জন মারা গেছেন। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে পুলিশ বা স্থানীয় প্রশাসন কিছু বলেনি। হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্র মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে হেফাজত দাবি করছে, ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয় সংবাদদাতারা বলছেন, হেফাজতে ইসলামের সমর্থক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে অনেক মানুষ আহত হয়েছেন।

গতকাল হেফাজতে ইসলামের ঢাকা হরতালে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, সংঘাত ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সবচেয়ে বেশি সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। সেখানে আগুন, ভাঙচুর ও গুলি—সবই ঘটেছে। আগুন দেওয়া হয়েছে সাতটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন, আওয়ামী লীগের চার নেতার বাড়ি ও সাধারণ সম্পাদকের অফিস, তিনটি গাড়ি ও ১১ মোটরসাইকেলে। ভাঙচুর করা হয়েছে ১০ গাড়ি ও উন্নয়ন মেলার ৩০টির বেশি দোকান। বেসরকারি তিনটি কলেজেও হামলা হয়েছে। আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ পুলিশ, ২ সাংবাদিকসহ ৩৪ জন। হামলা হয়েছে ট্রেনেও। এরপর দিনভর ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর ছাড়াও সরাইল ও আশুগঞ্জ উপজেলায়ও হামলা-ভাঙচুর হয়েছে। সরাইলে গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন। এর বাইরে সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে রাত পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে শিমরাইল পর্যন্ত স্থানে সড়ক অবরোধ ও সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন মাদ্রাসার ছাত্ররা। তাঁরা প্রায় ১০০ গাড়ি ভাঙচুর করেন। ১৩টি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দিনভর চেষ্টা চালায় বিজিবি, পুলিশ ও র‌্যাব। এই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।


এ ছাড়া চট্টগ্রাম, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নোয়াখালী, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও অনেক স্থানে হরতাল প্রতিরোধে মাঠে ছিলেন। তাঁদের পুলিশের পাশাপাশি অবস্থান করতে দেখা যায়


হেফাজতে ইসলামের আমির জুনাইদ বাবুনগরী গতকাল বিকেলে হাটহাজারীর কাছারি সড়কে সাংবাদিকদের বলেন, হরতালে সারা দেশের জনগণ ও আলেমরা সাড়া দিয়েছেন। সারা দেশের মাদ্রাসায় ‘হামলা ও জুলুম’ হচ্ছে দাবি করে হেফাজতের আমির তা বন্ধের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার বিকেলের মাদ্রাসাছাত্রদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ গুলি চালিয়ে হাটহাজারীর চারজনকে হত্যা করেছে। আহত হয়েছেন অনেক। তাঁর দাবি, এ পর্যন্ত ১৬ জন সারা দেশে নিহত হয়েছেন।
এর ঘণ্টাখানেক পর ঢাকায় হেফাজতের সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, তিন দিনে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। মোদিবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয় শুক্রবার জুমার নামাজের পর। সেদিন ঢাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারি দলের হামলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ বাধে। এর জের ধরে হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্ররা মিছিল বের করলে পুলিশের সঙ্গে গুলিতে সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। এর প্রতিবাদে ওই দিনই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসার ছাত্ররা বিক্ষোভ, হামলা, ভাঙচুর ও রেলস্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেন। সেদিন সেখানে ১ জন নিহত হন। পরদিন আবার বিক্ষোভ-সংঘাতে নিহত হন ছয়জন। গতকাল আরও তিনজন।


মোদির সফরবিরোধী আন্দোলন এখন যেভাবে সংঘাতময় হয়ে উঠেছে, তাতে এর শেষ কোথায়, এ প্রশ্ন সামনে এসেছে। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রথম ছিল আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি। কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধান নয়, একজন উগ্র সাম্প্রদায়িক, ইসলাম ও মুসলিমবিদ্বেষী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে। সেটি ছিল শুধুই ঘৃণা প্রকাশ। কিন্তু সরকার ও প্রশাসন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে রক্তাক্ত করেছে। পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় কর্মীদের হত্যার প্রতিবাদে।’ তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলনে আমাদের অর্জন হলো দেশের মানুষ আমাদের দাবির সঙ্গে যে কতটা একমত, তার প্রকাশ হয়েছে। আশা করি, ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে সরকারের বোধোদয় হবে।’
মোদিবিরোধী আন্দোলন কেবল হেফাজত বা ধর্মভিত্তিক সংগঠন নয়, শুরু থেকে এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, সমাবেশ করেছিল বামপন্থী বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন সংগঠনও। এসব সংগঠনের সঙ্গেও পুলিশ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল গত বৃহস্পতিবার।


গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদিকে স্বাগত জানানো বা না জানানোর অধিকার মানুষের আছে। কিন্তু সেই অধিকার দমনে সরকারি বিভিন্ন বাহিনী এ সরকারদলীয়দের কর্মকাণ্ড ন্যক্কারজনক। মোদি সরকারের উগ্র সাম্প্রদায়িক আচরণের বিরুদ্ধে ভারতেও আন্দোলন হচ্ছে। মোদির সাম্প্রদায়িক নীতির বিরুদ্ধাচরণ করা বাংলাদেশ সরকারেরও দায়িত্ব ছিল। কিন্তু ক্ষমতায় টিকে থাকতে তারা সেটা করতে পারেনি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রণক্ষেত্র

হেফাজতে ইসলামের হরতালকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বেলা ১১টার পর থেকে জেলা সদর, আশুগঞ্জ, সরাইলের একাধিক স্থানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ভাঙচুর হয়েছে ব্যাপক। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হামলাকারীদের লক্ষ্য ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি সম্পদ। লক্ষ্য বানানো হয়েছে সাংবাদিকদেরও।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, সকাল থেকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানা মসজিদ থেকে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন এবং কোথাও হামলা না করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু বেলা ১১টার পর জেলা পরিষদ ভবন, সুরসম্রাট আলাউদ্দিন সংগীতাঙ্গন, সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়, জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার ও পৌরসভায় ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়। হামলা হয়েছে সদর থানায় ও প্রেসক্লাবে। শহীদ ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত ভাষা চত্বরে গত শনিবার থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উন্নয়ন মেলা চলছে। সেই মেলাতেও আগুন দেওয়া হয়েছে। শহরের মূল সড়কের অনেক স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে রাস্তা আটকে রাখতেও দেখা যায়। হামলায় আহত হন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ক্লাবের সভাপতি ও জনকণ্ঠ-এর সাংবাদিক রিয়াজউদ্দিন জামি।
আশুগঞ্জে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোলপ্লাজায় থাকা পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা ও আগুন এবং টোল আদায়ের বুথ ভাঙচুর করেন হেফাজত কর্মীরা। সরাইল উপজেলায় সড়ক-মহাসড়কে সকাল থেকেই হরতাল-সমর্থকেরা লাঠিসোঁটা হাতে অবস্থান নিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, সরাইল বিশ্বরোড মোড়, কুট্টাপাড়া মোড়, বারিউড়া, শাহবাজপুর, বেড়তলা এবং সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের উচালিয়াপাড়া মোড় কালীকচ্ছ বাজার এলাকায় কয়েক হাজার মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ও তাঁদের সমর্থক লোকজন লাঠিসোঁটা হাতে অবস্থান করছেন। এসব সড়কের কিছু দূর পরপর গাছের গুঁড়ি, বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছপালা ফেলে এবং টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বিশ্বরোড মোড়ে খাটিহাতা হাইওয়ে থানায় হামলা করেন হরতাল-সমর্থক হেফাজতের কর্মীরা। তাঁরা থানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলি করে। সেখানে দুজন নিহত হয়েছেন। এঁরা হলেন সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের খাটিহাতা গ্রামের হাদিস মিয়া ওরফে কালন মিয়া (২৩) ও কুট্টাপাড়া গ্রামের সুফি আলীর ছেলে আল আমীন (১২)।
হাইওয়ে থানায় হামলায় অনেক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) আনিছুর রহমান।

 

ঢাকায়ও সড়ক অবরোধ, উত্তেজনা


রাজধানী ঢাকার লালবাগ, পল্টন, বায়তুল মোকাররম মসজিদ, মোহাম্মদপুর, বছিলা, সাতমসজিদ এলাকায় হরতালের সমর্থনে লাঠিসোঁটা হাতে মিছিল করেন হেফাজতের কর্মীরা। পল্টন এলাকায় হেফাজতের কর্মীদের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে সরকারি দলের কর্মীদের। বেলা সোয়া ১১টার দিকে হেফাজতের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর নেতারা বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আসেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে হেফাজতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বন্দুকের নল ও সন্ত্রাস দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না। ডান-বাম ভেদাভেদ ভুলে সব পক্ষকে নিয়েই সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে


পল্টন ছাড়াও লালবাগ ও মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সকালে হরতাল সমর্থকেরা টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বছিলা সেতু এলাকাতেও প্রায় ২ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়।
মোহাম্মদপুরের সাতমসজিদ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ ও সরকারি দলের কর্মীদের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

বিভিন্ন জেলায় সংঘাত-বিক্ষোভ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হরতাল চলাকালে কিশোরগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় আওয়ামী লীগ ও হেফাজতের কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে প্রায় বেলা আড়াইটা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। এতে দুই পক্ষের প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল, ফাঁকা গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়ে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হরতাল-সমর্থকেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।
সিলেটে আওয়ামী লীগের হরতালবিরোধী মিছিলে ঢিল ছোড়া নিয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় একজন শ্রমিক ছুরিকাহত ও মারধরে আরও চারজন আহত হয়েছেন। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ আওয়ামী লীগের মিছিলে ঢিল ছোড়ার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সকাল ছয়টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম অবরোধ করে রাখেন হরতাল সমর্থকেরা। তাঁরা দাউদকান্দি টোলপ্লাজা থেকে ধীতপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশে বিদ্যুতের খুঁটি, গাছ, ঢালা, পিলার ও পাথর ফেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখেন। ফলে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে। পাঁচ ঘণ্টা পর বেলা ১১টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল ইসলাম খান অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলার পর যান চলাচল শুরু হয়।


মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে সকাল থেকেই মধুপুর পীর আবদুল হামিদের নেতৃত্বে সড়কে অবস্থান নেন হরতাল-সমর্থকেরা। তাঁদের কেউ কেউ নিমতলী এলাকায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অবস্থান নেন। হরতালকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কর্মীদের সংঘর্ষ হয় একটি স্থানে।


চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার সদর ও খরনা এলাকা কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা অবরোধ করলে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। দুপুরে হবিগঞ্জের বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে হেফাজতের কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ওসির গাড়ি ভাঙচুর ও দুজন পুলিশ কর্মকর্তার মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।


দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে যে ঘটনাপ্রবাহ ঘটে গেল, তা খুবই দুঃখজনক। মোদির সফর নিয়ে সরকারপক্ষ ও বিরোধীপক্ষ অতিপ্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। দুই পক্ষের এই অতিপ্রতিক্রিয়ার কারণে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।’




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top