ঢাকা রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮

রাজধানীতে যেভাবে পালিত হলো হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতাল

সংবাদ প্রতিদিন | প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২১ ০২:৫৮; আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২১ ২১:৫২

সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হরতালের সমর্থনে মিছিল করে হেফাজত। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, লালবাগ, উত্তরা, বারিধারাসহ বিভিন্ন স্থানে মিছিল বের করেন বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা। 

বেলা ১০ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অবস্থান ছিলো হেফাজতের। সেখান থেকে কয়েক দফায় মিছিল নিয়ে পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা, নাইটেংগেল মোড়েও অবস্থান নেয় হেফাজত কর্মীরা। এ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্টন মোড়ে আওয়ামী লীগে ও হেফাজত কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটলেও কেউ হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

পল্টন এলাকায় হেফাজতের মিছিলের নেতৃত্বে দেন ঢাকা মহানগর হেফাজতের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক। হরতালের সমর্থনে হেফাজতের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের নেতা কর্মীরাও পল্টন এলাকায় অবস্থান নেয়। ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা দফায় দফায় সেখানে মিছিল করে।
মিছিলপূর্ব সমাবেশে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, সরকার অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে মানুষ হত্যা করতে দ্বিধা করছে না। নিজেদের ক্ষমতার কাছে মানুষের জানমালের কোন মূল্য নেই। সারাদেশে অসংখ্য মানুষ হত্যা এবং শত শত মানুষের রক্ত ঝরিয়ে সরকারের আখের রক্ষা হবে না। জনগণ রাজপথে নেমে এসেছে, রক্তের বদলা না নেওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবে না।

হেফাজতের দাবি পুলিশ বিনা উস্কানিতে হেফাজত নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে এবং তাদেরকে গ্রেফতার করেছে।

হরতালের সমর্থনে সকাল দশটার দিকে মোহাম্মদপুর বসিলা এলাকায় অবস্থান নেয় হেফাজতের কর্মীরা। এ সময় কিছুক্ষণ রাস্তা অবরোধ করে রাখেন তারা।

এদিকে, বিকালে রাজধানীর প্রগতি স্মরণীর যমুনা ফিউচার পার্কের সামনের রোডে সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও পিকেটিং করেছে হেফাজত নেতাকর্মীরা। ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় হেফাজত নেতাকর্মীদের লাঠিসোটা ও রড  হাতে দেখা যায়।

রবিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম বলেন, দুই দিনের কর্মসূচিতে ১৭ জনের অধিক নিহত হয় এবং ৫০০ জনেরও অধিক আহত হয়। পুলিশ ২০০ এরও অধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করে। সরকারদলীয় লোকদের তাণ্ডব আর পুলিশী হামলার পরও আমাদের নেতা-কর্মীদেরকে আমরা শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ হরতাল কর্মসূচিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিনা উস্কানিতে বিজিবি ও পুলিশের নৃশংস গুলি চালানো এবং সরকারদলীয় সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে বাক্ষ্মণবাড়িায় হতাহাতের ঘটনার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য উবাইদুল মুকতাদির চৌধুরীকে দায়ী করেন হেফাজত মহাসচিব।

মতিঝিল থানার উপ পুলিশ কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলাম  বলেন, হরতালকে কেন্দ্র করে মতিঝিল এবং পল্টন এলাকায় বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। হরতাল সমর্থনে বের হওয়া মিছিল থেকে কাউকে গ্রেফতার কিংবা আটক করা হয়নি। এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, রাস্তা অবরোধের যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় পড়েছে। যা নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ এলাকার অন্তর্ভুক্ত। হরতাল কেন্দ্রিক কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা তার থানা এলাকায় ঘটেনি।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top