ঢাকা শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০ আশ্বিন ১৪২৮

বাংলাদেশের জলসীমায় ভারতীয় জেলেদের মাছ লুট

নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১১:৪০; আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২১:৫৭

প্রতিবারই এমন ঘটছে ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় অবৈধভাবে প্রবেশ করছে, অনেক সময়তো ভারতের বিএসএফদের পরোক্ষ মদদে তাদের জেলেরা বাংলাদেশ জলসীমায় প্রবেশ করছে, করছে মাছ শিকার। এমনও হয়েছে অনেক সময় বাংলাদেশের জেলেরা হেনাস্থার শিকারও হয়েছে। এসব জেলেরা প্রতিবছরই বাংলাদেশের লাখ লাখ টাকার মাছ লুটে করে নিয়ে যাচ্ছে। নানা সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের জলসীমায় পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় গভীর সমুদ্রে ভারতীয় জেলেদের অবাধ বিচারণ চলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এবারের ইলিশের ভরা মৌসুমে আরো বেপরোয়া হয়ে গেছে ভারতীয় জেলেরা। বাংলাদেশের জলসীমাতে অবৈধভাবে প্রবেশ করে করছে মাছ লুট। অবৈধভাবে ভারতীয় জেলেদের এমন মাছ লুট বাংলাদেশের জেলেদের পরতে হচ্ছে ক্ষতির মুখে। এমন কি তারা সঠিক ভাবে মাছ শিকার করতে পারছে না।

 

সার্বিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে মোংলা উপজেলা মৎস্য সমিতির সভাপতি বিদ্যুৎ মন্ডল বলেন, ‘ভারতীয় জেলেরা প্রতিনিয়ত আমাদের মাছ লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। প্রজনন মৌসুমে বাংলাদেশে যখন মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়, ভারতে তখন এ নিষেধাজ্ঞা থাকে না। ফলে সহজেই ওরা এসে মাছ ধরে নিয়ে যায়। একই সময় মাছ ধরতে না পেরে আমাদের জেলেরা অর্ধাহারে অনাহারে থাকে।’

 

সমুদ্রের মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় জেলেরা। বিদ্যুৎ মন্ডল দাবি করেন, ভরা মৌসুমেও ইলিশ না পেয়ে আমাদের হাজার হাজার জেলে খালি হাতে ফিরছে। কারণ তার আগেই ভারতীয় জেলেরা ইলিশ ধরে নিয়ে গেছে।

 

এদিকে, সর্বশেষ গত শুক্রবার (৩ সেপ্টম্বর) অবৈধভাবে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকারের সময় বিপুল পরিমাণ ইলিশ ও সামুদ্রিক মাছসহ ১৩ ভারতীয় জেলেকে আটক করে কোস্টগার্ড। এর আগে গত ৮ আগস্ট একই অপরাধে আরও ১৩ জন, ২৯ জানুয়ারি ২৮ জন ও গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর ১৬ জন, ২ ডিসেম্বর ১৭ জন জেলে নৌ বাহিনীর হাতে আটক হয়। প্রতিবছরই এ ঘটনা ঘটে চলেছে।

 

এদিকে আটক ভারতীয় জেলেদের সমুদ্রসীমা লঙ্ঘনের অপরাধে ১৯৮৩ সালের সমুদ্রসীমা আইনের ২২ ধারায় মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়।

 

সমুদ্র সংলগ্ন উপকূলের জেলে ফকির আব্দুল্লা, বোরহান উদ্দিন, শহিদ মল্লিক ও আব্দুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের জলসীমা থেকে ভারতের কাকদ্বীপ এলাকার কাছে। এ কারণে সেখানকার বিপুলসংখ্যক জেলে এ দেশের জলসীমায় মাছ ধরতে আসে। মাছ ধরার অত্যাধুনিক বিভিন্ন সরঞ্জাম থাকায় তারা অনেক বেশি মাছ আহরণ করতে পারে।

 

মাছ ধরার সরঞ্জামসহ ভারতীয় ট্রলার জব্দ ও জেলেদের আটক করা হয়সাগরে অধিকাংশ সময়ই ভারতের জেলেদের উৎপাত বেশি থাকে উল্লেখ করে জেলে আলম হাওলাদার বলেন, ভারতীয় জেলেরা কারেন্ট জালসহ পাঁচ ধরনের অত্যাধুনিক জাল ব্যাবহার করে। তাদের কাছে রয়েছে জিপিএস (বিশেষ সংকেত) নামক বিশেষ ধরনের যন্ত্র। এ যন্ত্রের মাধ্যমে ভারতীয় জেলেরা যে পথ দিয়ে আসে, আবার সে পথ দিয়েই ফিরে যায়।

 

অভিযোগ আছে, ভারতীয় জেলেরা ইচ্ছে করেই বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে প্রতিনিয়ত মাছ শিকার করে। তারা এসময় উন্নত মানের ফিশিং বোট নিয়ে মাছ শিকারের সময় উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বাইনোকুলার দিয়ে ট্রলারে বসে নৌ বাহিনী ও কোস্টগার্ডের তৎপরতায় নজর রাখে। এসব বাহিনীর তৎপরতা দেখলেই দ্রুত নিজেদের জলসীমায় পালিয়ে যায়।

 

ফিশারিজ বিভাগের এই আধ্যাপক আরও বলেন, ‘যেভাবে বিদেশি জেলেরা মাছ শিকার করছে, তাতে এদেশের মৎস্য সম্পদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে যারা আটক হচ্ছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া দরকার।’

 

তাছাড়া দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় বঙ্গোপসাগরে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানান তিনি।

 

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top