ঢাকা শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০ আশ্বিন ১৪২৮

রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী ও নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১ আগস্ট ২০২১ ০০:০১; আপডেট: ১ আগস্ট ২০২১ ০০:৫৪

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী এবং ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষ উদযাপন করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

শনিবার (৩১ জুলাই) সিউলের বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, সিউলের ভারতীয় দূতাবাস, ইন্ডিয়ান আর্ট মিউজিয়াম, ট্যাগর সোসাইটি অব কোরিয়া, বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়া এবং প্রবাসী বাংলাদেশি লাদেশিদের অংশগ্রহণে ভার্চুয়ালি রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী ও নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার শতবর্ষ উদযাপন করা হয়েছে।

দূতাবাস জানায়, দুই পর্বের এই সাংস্কৃতিক পরিবেশনাটির প্রথম পর্বে বরেণ্য এই দুই কবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলামের সঞ্চালনায় দেশটিতে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন এবং ইন্ডিয়ান আর্ট মিউজিয়ামের পরিচালক পদ্মশ্রী ড. কিম ইয়াং-শিক শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করেন।

পরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পুত্রবধূ কল্যাণী কাজী ‘বিদ্রোহী’ কবিতার পটভূমি সম্পর্কে আলোকপাত করেন এবং বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অব কোরিয়ার শিল্পীরা তাদের নৃত্যের মাধ্যমে ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি উপস্থাপন করেন।

সেইসঙ্গে ট্যাগর সোসাইটি অব কোরিয়ার সদস্যরা গীতাঞ্জলী থেকে কোরিয়ান ভাষায় রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করে শোনান। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে কবিগুরু ও কাজী নজরুল ইসলামের ষড়ঋতু ভিত্তিক সঙ্গীত, কবিতা, নৃত্য ও যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন করা হয়।

রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে এবং তৎকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কবিগুরু ও কাজী নজরুল ইসলামের অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন।

চলতি বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তীর কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলা সাহিত্যের দুই দিকপাল দুই দেশের অভিন্ন সম্পদ, যা বন্ধুপ্রতীম এই দুই দেশকে এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।

রাষ্ট্রদূত আবিদা বলেন, কোরিয়ার জনগণের কাছে কবিগুরু সুপরিচিত হলেও কাজী নজরুল ইসলাম ততটা পরিচিত নয় বিধায় দূতাবাসের এই সাংস্কৃতিক আয়োজন ছিল কবিগুরুর পাশাপাশি কাজী নজরুল ইসলামকে কোরিয়ার জনগণের কাছে পরিচিত করে তোলার এক ক্ষুদ্র প্রয়াস।

ভারতের রাষ্ট্রদূত শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাস ও ভারতীয় দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে রবীন্দ্র জয়ন্তী উদযাপন করছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত রচনার পাশাপাশি দুই দেশের সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন রচনা করেছেন। কবিগুরুর আদর্শ ও চিন্তাধারা বর্তমান প্রেক্ষাপটেও প্রাসঙ্গিক, যা ভবিষ্যতেও পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।

কবি নজরুল ইসলাম সম্পর্কে ভারতীয় দূত বলেন, নজরুলের সাহিত্যকর্ম সুবিধাবঞ্চিত ও নিপীড়িত জনগণের অধিকার আদায়, বিপ্লব, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সাম্য ও স্বাধীনতার বার্তা বহন করে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নজরুলের আদর্শ ও সাহিত্যকর্মের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।

পদ্মশ্রী পুরষ্কারে ভূষিত ইন্ডিয়ান আর্ট মিউজিয়ামের পরিচালক পদ্মশ্রী ড. কিম ইয়াং-শিক তার বক্তব্যে বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্র ও নজরুলের অসামান্য অবদানের কথা উল্লেখ করেন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কাজী নজরুল ইসলামের পুত্রবধূ কল্যাণী কাজী ‘বিদ্রোহী’ রচনার পটভূমি এবং তৎকালীন সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করে বলেন, এই কবিতা প্রকাশের পরপরই নজরুলের খ্যাতি বাঙালি সমাজে ছড়িয়ে পড়ে, যা তখনকার তরুণ সমাজের মধ্যে আবেগ, অনুপ্রেরণা ও উন্মাদনার সঞ্চার করে এবং সামাজিক-রাজনৈতিক চেতনা ও মূল্যবোধকে জাগ্রত করে তোলে। ‘

বিদ্রোহী’ কবিতার তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা অপরিসীম ও অম্লান, বলেন কবি পুত্রবধূ। 

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top