ঢাকা বুধবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে অর্থমন্ত্রীর মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিবেদক: | প্রকাশিত: ১ জুলাই ২০২১ ২২:০২; আপডেট: ৮ ডিসেম্বর ২০২১ ০৯:৫৬

করোনার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাংলাদেশকে দ্রুত উত্তরণে সহায়তার জন্য এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট শিক্সন চেইনকে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) এক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান অর্থমন্ত্রী। 

অন্যদিকে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট মার্কোস ট্রয়োর সঙ্গেও ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভা করেন মন্ত্রী। ভার্চুয়াল সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা বিনির্মাণের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সে স্বপ্ন পূরণে তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষ, যোগ্য ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের পরিচয় দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের মাধ্যমেই ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে করোনার অর্থনৈতিক, স্বাস্থ্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব উত্তরণে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী কয়েকদিন আগে বাংলাদেশকে ভ্যাকসিন কেনার জন্য ৯৪ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়ায় ধন্যবাদ জানান। উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও এডিবির মধ্যে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। করোনা মহামারি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে এডিবি শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে থেকে সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের পাশে সবসময় এডিবি থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট।

এডিবি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। এডিবি এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারকে ২৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তা দিয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব উত্তরণের‌ লক্ষ্যে ৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা, ২৫ কোটি ডলারের পলিসি সাপোর্ট, কোভিড রেসপন্স ইমারজেন্সি অ্যাসিসটেন্স শীর্ষক প্রকল্পে স্বাস্থ্য খাতে ১০ কোটি ডলার সহায়তা এবং করোনা মোকাবিলায় ৯.৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান সহায়তা দিয়েছে এডিবি। বাংলাদেশে উন্নয়ন সহায়তার ক্ষেত্রে এডিবি প্রধানত বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, কৃষি, পানি সম্পদ, সুশাসন, আর্থিক এবং বেসরকারি খাতকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

অন্যদিকে আরেক ভার্চুয়াল সভায় নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের বিষয়ে ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট মার্কোস ট্রয়ো অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

অর্থমন্ত্রী মার্কোস ট্রয়োকে জানান, বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বৈদেশিক সহায়তার চাহিদাও বাড়ছে। এ প্রেক্ষিতে তিনি নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের বিষয়টি উভয়ের জন্য লাভজনক হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। উন্নয়নকে টেকসই করতে এবং বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সুখী-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট মার্কোস ট্রয়ো বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়নকে দুর্দান্ত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন-লক্ষ্য পূরণে পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মার্কোস ট্রয়ো নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে বাংলাদেশের সদস্যপদ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে সব সহযোগিতা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ব্রাজিল, রাশিয়া, চীন, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সমন্বয়ে গঠিত ব্রিকস দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত একটি বহুজাতিক ব্যাংক। ব্যাংকটি ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে সহায়তা প্রদান করে থাকে। ব্যাংকটির সদস্যপদ লাভ করলে বাংলাদেশের জন্য নতুন একটি সম্ভাবনাময় বৈদেশিক অর্থায়নের ক্ষেত্র উম্মোচিত হবে। শুরু থেকে এ পর্যন্ত গত ৫ বছরেরও বেশি সময়ে ব্যাংকটি সদস্য দেশগুলোকে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছে।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top