ঢাকা শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ৮ শ্রাবণ ১৪২৮

সিএন্ডএফ সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি চট্রগ্রাম কাস্টমস হাউস

 আবদুল হাই তুহিন | প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২১ ১৫:৩৯; আপডেট: ২২ জুন ২০২১ ১৯:১৭

গত দুই বছর যাবত চট্রগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সিএন্ডএফের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। বার বার শুল্ক ফাঁকি দিয়েও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকছেন নেতারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিএন্ডএফ এজেন্ট বি এন জেড ইন্টারন্যাশনালের মালিক: মো: আবুল খায়ের। তিনি চট্টগ্রাম সি এন্ড এফ এসোসিয়েশনের যুগ্ম কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক। তার দুটি চালানে দ্বিতীয় কায়িক পরীক্ষায় পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা প্রমাণিত হওয়ায় দুই দুইবার সাসপেন্ড হয়।

এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও তদবিরের জোরে ও সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের নেতাদের চাপে তদন্ত প্রতিবেদন তার পক্ষে নেয়।

সুকৌশলে উক্ত সিএন্ডএফের অন্যান্য বিল অব এন্ট্রির শুল্ক ফাঁকির বিষয়গুলো গোপন করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। কেবল তাই নয় আবুল খায়েরের আরো কয়েকটি চালানে দ্বিতীয় বার কায়িক পরীক্ষায় রাজস্ব জালিয়াতির ঘটনা কর্তৃপক্ষ ধামাচাপা দিয়েছেন।

ঢাকা কাস্টমস এজেন্ট এসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট খায়ের ব্রাদার্সের মালিক খায়ের মাশরুম ঘোষণায় সিগারেট আমদানী করে ২২ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি দিয়েছেন কিন্তু খায়ের ব্রাদার্সের লাইসেন্স বাতিল করলেও অদৃশ্য কারনে মালিকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ফৌজদারি মামলা দায়ের করেনি।

কিন্তু ছোটখাটো ভুল ও সামান্য অপরাধের জন্য সাধারণ সিএন্ডএফের এর বিরুদ্ধে বিন লক, লাইসেন্স বাতিল ও মামলা করতে কার্পণ্য করেনি চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে কাস্টমস হাউস পাড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

তাছাড়া এইচ এ ইন্টারন্যাশনালের  জামাল উদ্দিন বাবলু চট্টগ্রাম এসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য। রাসায়নিক পরীক্ষাগারের সাতটি টেস্ট রিপোর্ট জালিয়াতির জন্য লাইসেন্স সাময়িক বাতিল হলেও মামলা হয়নি। তার মালিকাধীন অন্য লাইসেন্স এইচ বি এন কর্পোরেশন লিমিটেড, বহাল তবিয়তে আছে। একই মালিকের একটি লাইসেন্স রাজস্ব জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়লে তার মালিকানাধীন অন্য লাইসেন্স বাতিল হবে এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু কাস্টম হাউস অদৃশ্য কারণে তা করেনি,এমনকি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোন মামলাও করেনি। এত বড় জালিয়াতি করে এখনো বীরদর্পে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে গত রোববার বি এন জেড ইন্টারন্যাশনালের দুই দুইবার স্থগিতকৃত লাইসেন্স অবমুক্ত করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, নেতাদের শুল্ক ফাঁকির কোন ঘটনা উদঘাটিত হলে এবং লাইসেন্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে তারা আন্দোলন ও অবরোধের হুমকি দিয়ে তাদের স্বার্থ হাসিল করে নেয়।

পাশাপাশি নেতাদের কাছ থেকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মোটা অঙ্কের মাসোয়ারা নেয়। এছাড়া নেতারা কাস্টমস কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তাদের পন্য খালাসের তড়িৎ ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। এতে সাধারণ সিএন্ডএফের এজেন্টরা কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, লাইসেন্স সেকশনের কর্মকর্তা আবুল বাশার সাবেক এক মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে নির্বিঘ্নে নানান অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি বহিরাগতদের নিয়ে সিন্ডিকেট বানিয়ে লাইসেন্স সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে লাইসেন্স সেকশনের প্রধান আবুল বাশার সংবাদ প্রতিদিনকে বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে লাইসেন্সের কোন কাজই হয়নি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ অপপ্রচার করছে বলে ও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রসঙ্গত, কাস্টমস হাউসে কোন সমস্যা হলে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ছয়টি নাম্বার সংবলিত একটি ব্যানার সাঁটিয়েছেন, অথচ বারবার কল দিলেও উক্ত নাম্বারগুলো কেউ রিসিভ করে না।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কমিশনার ফখরুল আলম সংবাদ প্রতিদিনকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন। এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতেই তিনি কল কেটে দেন।

এ প্রসঙ্গে বক্তব্য নিতে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের সভাপতি শফিউদ্দীনকে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি। এমনকি এসএমএস (ক্ষুদে বার্তা) করলেও তিনি কোন রিপ্লাই দেন নি।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top