ঢাকা শনিবার, ২৪ জুলাই ২০২১, ৮ শ্রাবণ ১৪২৮

ইরানের সঙ্গে ৬ পরাশক্তির পারমাণবিক আলোচনা স্থগিত

ডেস্ক রিপোর্ট | প্রকাশিত: ২১ জুন ২০২১ ০০:৫১; আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২১ ০৪:৫৪

ইরানের সঙ্গে বিশ্বের ছয় পরাশক্তির পারমাণবিক আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে।

২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি পুনরায় কার্যকর করার লক্ষ্যে ভিয়েনায় চলমান আলোচনাটি রবিবার স্থগিত করা হয়। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ দেশে ফিরে গিয়ে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো অতিক্রমের জন্য পরামর্শ করবেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কবে এই আলোচনা পুনরায় শুরু হবে তা অনিশ্চিত।

সাধারণভাবে ইরান পারমাণবিক চুক্তি হিসেবে পরিচিত জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্লান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই ভিয়েনায় স্বাক্ষরিত হয়। এতে ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে আবদ্ধ হয় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্য-চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানি। চুক্তিতে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেয় ইরান। কিন্তু ২০১৮ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান পারমাণবিক চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা শুরু করেছে। তেহরানের বলে আসছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে তারা চুক্তির শর্ত মানবে না।

ভিয়েনায় ইরানের শীর্ষ সমঝোতাকারী আব্বাস আরাকচি বলেন, একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছি আমরা। কিন্তু আমাদের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা অতিক্রম করে একটি চুক্তিতে পৌঁছা খুব সহজ কাজ নয়।

তিনি আরও বলেন, আজ রাতেই আমরা ইরান ফিরব।

রবিবার প্রায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে আলোচনার তা স্থগিত করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত হওয়া রাশিয়া দূত জানিয়েছেন, আপাতত আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য কোনও তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়নি। তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন ১০ দিনের মধ্যে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে।

এপ্রিল থেকেই ভিয়েনায় ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষা আলোচনা চলছে। আলোচনাটির সমন্বয়কের ভূমিকায় থাকা ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনৈতিক প্রধান এনরিক মোরা বলেন, ষষ্ঠ পর্বে এই সপ্তাহে আমাদের অগ্রগতি হয়েছে। আমাদের চুক্তির কাছাকাছি কিন্তু এখনও চুক্তির করার মতো অবস্থায় পৌঁছাইনি।

শনিবার ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন কট্টরপন্থী বলে পরিচিত ইব্রাহিম রায়িসি। তবে এতে পারমাণবিক চুক্তির আলোচনায় কোনও প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে না। কারণ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে চুক্তি মেনে চলার পক্ষপাতি।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top