ঢাকা শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮

প্রতারণার দায়ে এনআইডির অপারেটর চাকরিচ্যুত

নিজস্ব প্রতিবেদক: | প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২১ ০১:২৭; আপডেট: ১০ জুন ২০২১ ০১:২৭

শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও প্রতারণার দায়ে একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরকে চাকরিচ্যুত করেছে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ (এনআইডি)। একইসঙ্গে ওই কর্মচারীর ছোট ভাইকে প্রতারণার অভিযোগে পুলিশে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (৮ জুন) মামলা দায়েরের পর তাদের শেরে বাংলা নগর থানা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়। গত ২৮ মার্চ কিশোরগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশ্রাফুল আলম ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. নূরে আলমের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন। আইডিইএ প্রকল্পের কমিউনিকেশন অফিসার ইনচার্জ স্কোয়াড্রন লিডার কাজী আশিকুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে জানানো হয়, শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও প্রতারণা করে ছোট ভাইকে দিয়ে অফিস করানোর অভিযোগে কিশোরগঞ্জের নিকলী থানা নির্বাচন অফিসে আইডিইএ প্রকল্পে কর্মরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. নূরে আলমকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতারণায় সহযোগিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের সহযোগী ছোট ভাই মাজহারুল ইসলাম ওরফে সানি মিয়াকেও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অভিযোগে উল্লেখ করেন, দায়িত্বে অবহেলা ও অনুমতি ছাড়া অফিসে অনুপস্থিত হওয়া, অফিস ত্যাগ করা এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করাসহ গুরুতর নানা অভিযোগ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২ মে প্রকল্প কার্যালয়ে সংযুক্তপূর্বক ক্যান্টনমেন্ট থানা নির্বাচন অফিসে দায়িত্ব পালনের জন্য নূরে আলমকে বদলি করা হয়। প্রকল্প কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকালীন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নূরে আলমের বিরুদ্ধে ছোট ভাই সানি মিয়াকে দিয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা নির্বাচন অফিসে প্রক্সি ডিউটি করানোর অভিযোগও পাওয়া যায়।

গত ৭ জুন আইডিইএ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কাশেম মো. ফজলুল কাদের নেতৃত্বে একটি টিম ক্যান্টনমেন্ট থানা নির্বাচন অফিস পরিদর্শন করেন। এ সময় স্মার্টকার্ড বিতরণে কর্মরত ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়।

পরদিন ৮ জুন প্রকল্প কার্যালয়ে অভিযুক্ত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নূরে আলম ও তার ভাইয়ের তদন্ত সাপেক্ষে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানির সময় আলম তার বিরুদ্ধে ওঠা কিশোরগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসারের সব অভিযোগের দায় স্বীকার করেন। পাশাপাশি ক্যান্টনমেন্ট থানা নির্বাচন অফিসে তার পরিবর্তে তার ভাই মো. মাজহারুল ইসলাম কাজ করছে বলেন স্বীকার করেন। এই অপরাধকে প্রতারণা বলে মনে করে আইডিইএ প্রকল্প ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। এ অবস্থায় নূরে আলমের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আইডিইএ প্রকল্প থেকে অব্যাহতি ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মাধ্যমে ফৌজদারি অপরাধ করায় উভয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার নির্দেশ প্রদান করা হয় এবং তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top