ঢাকা শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮

পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের পাঁচ দাবি, না মানলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি শাজাহান খানের

নিজস্ব প্রতিবেদক: | প্রকাশিত: ৮ মে ২০২১ ২৩:৪৭; আপডেট: ১৯ জুন ২০২১ ০৯:২১

লকডাউনে গণপরিবহণ বন্ধ ছিল প্রায় ২০ দিন। এ কারণে যানবাহন মেরামত, কর্মচারী ও শ্রমিকের বেতন-ভাতা ও ঈদ বোনাস ইত্যাদি দেওয়ার জন্য গাড়ির মালিকদের নাম মাত্র সুদে ও সহজ শর্তে পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবহন খাতের তিন সংগঠন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এই দাবি জানায়। সবার পক্ষে এসব দাবি তুলে ধরেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান। তিনি পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে হুঁশিয়ারি দেন, এগুলো না মানলে ঈদের দিন দুই ঘণ্টা অবস্থান এবং ঈদের পরে কর্মসূচি দেওয়া হবে।

শনিবার (৮ মে ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে শাজাহান খান বলেন, ‘৫ এপ্রিল থেকে সরকার লকডাউন ঘোষণা করে। আজ এক মাস চার দিন হলো। কেউ কি খবর রেখেছেন সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের ঘরে চাল আছে কি নাই? তাদের চুলা জ্বলে কি না? তাদের পরিবার সন্তানরা এক বেলা ডাল ভাত খেলো কি না? এ খবর কেউ রাখেনি। না সরকার, না সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তি বা কোনও সমাজসেবা সংগঠন। সামান্য যা দিয়েছে তা শ্রমিক ও মালিক সংগঠন এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে মালিকরা সহায়তা দিয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। কত শ্রমিক পরিবার অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। কেউ রিকশা চালাচ্ছে, কেউ কুলিগিরি করছে। রোজার মাসে লাখ লাখ শ্রমিক পরিবার সেহেরি-ইফতার করতে পারেনি। সামনে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের আনন্দ শ্রমিকদের জীবনে নিরানন্দ বয়ে এনেছে। শ্রমিকের সন্তানদের একটু সেমাই, এক টুকরা মাংস দিতে পারবে না, এ যন্ত্রণা কোনও শ্রমিক পিতা সহ্য করতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সড়ক পরিবহন মালিকদের অবস্থাও ভালো নয়। কারণ গাড়ি চললে তারা টাকা পায়, শ্রমিকদের বেতন চলে, নিজেদের খরচ চলে। বাংলাদেশে তিন লাখের বেশি মালিক যাদের অধিকংশই স্বল্প পুঁজির মালিক। বড় বড় কোম্পানি হাতে গোনা কয়েকটি। গাড়ি চালাতে না পেরে তারা ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না, সুদ বাড়ছে। সরকারি ট্যাক্স, ফি, কর ইত্যাদি দিতে পারছে না। সুদের বোঝা বেড়ে যাওয়ায় বহু গাড়ি লিজিং কোম্পানি বাজেয়াপ্ত করছে। শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছে না। সরকার ২০২০ সালে করোনাকালে তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের প্রণোদনা দিয়েছিল। কিন্তু সড়ক পরিবহন মালিকদের প্রণোদনা দেয়নি।’

এসময় পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে আছে-

১. স্বাস্থ্যবিধি মেনে মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে দূরপাল্লার পরিবহনসহ সব গণপরিবহন এবং স্বাভাবিক মালামাল নিয়ে পণ্য পরিবহন চলাচলের সুযোগ দিতে হবে।

২. লকডাউনের কারণে কর্মহীন সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের আসন্ন ঈদের আগে আর্থিক অনুদান ও খাদ্য সহায়তা দিতে হবে।

৩. সারা দেশে বাস ও ট্রাক টার্মিনালগুলোতে পরিবহন শ্রমিকদের জন্য আসন্ন ঈদের পূর্বে ও পরে ১০ টাকায় ও এম এস'এর চাল বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে।

৪. কোভিড-১৯ এর কারণে গণপরিবহণ ব্যবসায় অর্থ বিনিয়োগের বিপরীতে সমস্ত ব্যাংক ঋণ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ ও ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ঋণের সুদ মওকুফসহ কিস্তি আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করতে হবে এবং দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নিয়ে ক্লাসিফাইড ঋনগুলো আনক্লাসিফাইড করতে হবে।

৫. লকডাউনে বন্ধ থাকার সময় গাড়ির ট্যাক্স-টোকেন, রুট পারমিট ফি, আয় কর, ড্রাইভিং লাইসেন্স ফিসহ সকল ধরনের ফি, কর ও জরিমানা মওকুফ করে ৩১ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত কাগজপত্র হালনাগাদ করার সুযোগ দিতে হবে ।

শাজাহান খান জানান, এই পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন ঈদের নামাজ শেষে সারা দেশে নিজ নিজ এলাকায় বাস ও ট্রাক টার্মিনালে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে। ঈদের পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা, মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান রমেশ চন্দ্র ঘোষ, জেনারেল সেক্রেটারি মো আবু রায়হান,  বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী প্রমুখ।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top