ঢাকা শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

মিয়ানমারের শরণার্থী ঠেকাতে ভারত সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, সংবাদ প্রতিদিন | প্রকাশিত: ৬ মার্চ ২০২১ ২১:২৬; আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০২১ ১৫:২৬

মিয়ানমার থেকে শরণার্থীর ঢল নামার আশঙ্কায় সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে ভারত। দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এমন খবর প্রকাশ করেছে। খবরে বলা হয়, জান্তা সরকারের ধড়পাকড়ে মিয়ানমারের নাগরিকরা সীমান্ত পাড়ি দিতে পারে আশঙ্কা করছে ভারত। অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটি।

এ প্রসঙ্গে মিয়ানমার সংলগ্ন ভারতীয় রাজ্য মিজোরামের চাম্পাই জেলার সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তা মারিয়া জুয়ালি জানান, তারা সীমান্ত দিয়ে কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। সীমান্তের সম্মুখভাগে ভারতীয় সেনা ও পুলিশ টহল দিচ্ছে। যদিও ইতোমধ্যে জান্তা সরকারের আদেশ পালন করবে না বলে মিয়ানমারের অন্তত ১৯ পুলিশ সদস্য সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে বলে খবর বেরিয়েছে। তারা ভারত সরকারের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন

এদিকে, ভারতে পালিয়ে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের ফেরত চেয়েছে মিয়ানমার। ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্য মিজোরামের চাম্পাই জেলার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, তিনি মিয়ানমারের ফালাম জেলা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছেন। সেখানে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আট পুলিশ সদস্যকে ফেরত পাঠাতে অনুরোধ জানানো হয়।

গত ১ ফেব্রুয়ারি রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সু চির সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশটির সর্বময় ক্ষমতা কুক্ষিগত করেন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইং। গ্রেপ্তার করা হয় স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি ও প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টকে। অভ্যুত্থানের পর থেকে এর বিরুদ্ধে রাজপথে বিক্ষোভ করছে হাজারো মানুষ। জাতিসংঘের তথ্যানুসারে, এখন পর্যন্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলিতে পঞ্চাশের অধিক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।

মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। সংখ্যালঘু খ্রিস্টান চীন জাতিগোষ্ঠীর লোকজন ছাড়াও অনেক রোহিঙ্গা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তাদের ভারতে চলে আসা ও আশ্রয়প্রার্থী হওয়ার ঘটনা এই প্রথম।

রয়টার্স মিয়ানমারের ওই চিঠির একটি কপি পাওয়ার পর পর্যালোচনা করে দেখেছে। সেখানে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ আট পুলিশের সীমান্ত অতিক্রম করার তথ্য পেয়েছে। তাদের মধ্যে একজন নারী পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। চারজনের বয়স ২২ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।

সীমান্ত জোরদারের বিষয়ে মিজোরামের আরেক জেলা সারচিপের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা কুমার অভিষেক জানান, সম্প্রতি মিয়ানমার সীমান্ত পার হয়ে এক নারী ও এক শিশুসহ আটজন ভারতে প্রবেশ করেছেন। আরও বহু মানুষ তাদের পথ অনুসরণ করতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

মিজোরামের এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, গত কয়েকদিনে মিয়ানমার পুলিশ ও তাদের পরিবারের সদস্য মিলে অন্তত ৩০ জন ভারতে প্রবেশ করেছেন। রাতেও কিছু লোক ঢুকেছে। ভারতের ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সীমান্তে ভারতীয় সেনাদের জোর টহল সত্ত্বেও মিয়ানমারের লোকজন ঢুকে পড়ছে। তারা বিভিন্ন রুট দিয়ে আসছে। ছিদ্রযুক্ত সীমান্তের কারণে তাদেরকে আটকানো কঠিন।

অন্যদিকে, মিয়ানমার থেকে আশ্রয়প্রার্থী বিশেষ করে পুলিশ সদস্যদের পালিয়ে আসায় দোটানায় পড়েছে ভারত সরকার। কারণ, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ভারতের অনুরোধে গত দুই বছর উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে বিদ্রোহী দমনে বহুবার অভিযান চালিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। জবাবে গত বছর বার্মিজদের প্রথম সাবমেরিন উপহার দিয়েছে ভারত। ভারতীয় ওই কর্মকর্তার মতে, এই মুহূর্তে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছে ভারত।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top