ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ৭ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

মেসির রক্তঝরা ম্যাচে ট্রাইবেকারে জয়

আর্জেন্টিনা ফাইনালে : ত্রানকর্তার ভূমিকায় গোলরক্ষক মার্টিনেজ

এম. এ রনী | প্রকাশিত: ৭ জুলাই ২০২১ ০৫:৩৮; আপডেট: ৭ জুলাই ২০২১ ১২:০১

অধরাই থেকে যাবে কি ফুটবল ঈশ্বরের আন্তর্জাতিক ট্রফি এমনিয় দৌদুল্যমানের মধ্যে শেষ পর্যন্ত ফাইনালে মেসির আর্জেন্টিনা। সম্পূর্ণ টুর্নামেন্ট জুড়ে ছিল মেসিময় ফুটবল।

আর্জেন্টিনাকে একাই টেনে নিয়ে গেলন সেমিফাইনালে। আর্জেন্টিনার এই টুর্নামেন্টে মোট ১১টি গোল ছিল তার মধ্যে নয়টিতেই ছিল মেসির সরাসরি অবদান। ৫টি এ্যসিস্ট আর নিজে করেছেন ৪টি গোল।

দ্বিতীয় সেমিফাইনালে কলোম্বিয়াকে ট্রাইবেকারে ৩-২ গোলে পরাজিত করে ফাইনালে ব্রাজিলের সঙ্গি হলো আর্জেন্টিনা।

 

মেসির স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা আলিঙ্গন

 

এবারই প্রথম কোপাতে নতুন নিয়মানুসারে নির্দিষ্ট সময় যদি দু-দলের গোলে সমতা থাকে তাহলে সরাসরি ট্রাইবেকারে ম্যাচ নিষ্পত্তি। ম্যাচের প্রথম ৬মিনিটে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের ৬০মিনিটের সময় কাউন্টার এ্যাটাকে কলোম্বিয়া ম্যাচে সমতা আনে। অতঃপর ম্যাচ গড়ায় ট্রাইবেকারে। কোয়াটার ফাইনালে ট্রাইবেকারে উরুগুয়ের সাথে কলোম্বিয়ার গোলকিপার এসপেনিয়য়ার দক্ষতায় সেমিতে পা রাখা এমনিতেই এগিয়ে ছিল। আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এসপেনিয়া এবার নিরাশ করলেন কলোম্বিয়াকে। ট্রাইবেকারের তিনটি শট প্রতিরোধ করে এবার নায়ক বনে গেলেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক ইমিলানো মার্টিনেজ।

 

 

 

 

কোপা আমিরিকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ৭ই জুলাই, বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় মুখোমুখি হয় কলোম্বিয়া এবং আর্জেন্টিনা। ম্যাচের প্রথম ৬মিনিটেই ম্যাসি ম্যাজিকে মার্টিনেজ গোল করে লিড এনে দেয় আর্জেন্টিনাকে। এরপর শুরু হয় বর্তমান ল্যাটিন আমেরিকার কংফু ফুটবল খ্যাত কলোম্বিয়ার শক্তি প্রদর্শিত খেলা উপস্থাপন। কলোম্বিয়ার শক্তিময় খেলার কারণে আর্জেন্টিনার স্বাভাবিক খেলা বাধাগ্রস্ত হয়। এমনিই এক ফাউলের কারণে রক্ত ঝরে মেসির পা থেকে। বারবারই কলোম্বিয়ার অতিশক্তি প্রদর্শিত খেলার জন্য ম্যাচের অনেক সময় খেলা নষ্ট হতে থাকে। ম্যাচে মোট ৯টি হলুদ কার্ড দেখাতে হয় রেফারিকে।

 

 

গোল লিড নিয়েই আর্জেন্টিনা রক্ষনাত্মক খেলতে থাকে। বল পজিশন আর বল দখলে আর্জেন্টিনা এগিয়ে থাকলেও প্রথার্ধের সহজ আরও একটি সুযোগ নষ্ট করে। আর দুদলেরই আর কোন গোল না হওয়ায় ১-০ গোলের ব্যবধান নিয়ে বিরতীতে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে গতিময় ফুটবল খেলতে থাকে কলোম্বিয়া। আর এই গতিময় ফুটবলের জন্য ম্যাচের ৬০মিনিটের সময় মধ্যমাধ থেকে কারডোনার বাড়ানো বলে ডিয়াজ অসাধারণ এক গোল করে ম্যাচে সমতায় আনে। কলোম্বিয়া এরপর আরও দু-একটি সুযোজ তৈরী করলেও আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এবং রক্ষনের জন্য গোল করতে ব্যর্থ হয়।

 

 

ম্যাচের ৭৩মিনিটের সময় সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করে আর্জেন্টিনার। মাঝমাঠে ডি-মারিয়া এগিয়ে থাকা কলোম্বিয়ান গোলরক্ষককে বডিডজ দিয়ে বাড়িয়ে দেয়া বলে মার্টিনেজ ফাকা বারের শটটি অসাধার দক্ষতায় রুখে দেন কলোম্বিয়ান ডিফেন্ডার সানচেজ। ৮১ মিনিটে মেসির একটি শট গোলবারে লেগে ফেরত আসলে ম্যাচে হতাশা বৃদ্ধিপায় আর্জেন্টিনার শিবিরে।

 

 

অবশেষে নির্ধারিত সময়ে সমতা নিয়ে খেলা শেষ হলে ট্রাইবেকারে গড়ায় ম্যাচ। কোয়াটারে কলোম্বিয়ান গোলরক্ষক এ্যাসপেনিয়ার অসধারণ সেভে এগিয়ে থাকে কলোম্বিয়া। কিন্তু ট্রাইবেকারে হিরো হয়ে গেলেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক মার্টিনেজ। কলোম্বিয়ানদের তিনটি শট রুখে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে গেলে স্বপ্নে ফাইনালে। ফাইনালে তাদের সঙ্গি ব্রাজিল।

 

 

ট্রাইবেকারে আর্জেন্টিনার পক্ষে গোল করেন মেসি, প্যারাডেস, লাউতারো মার্টিনেজ এবং গোল করতে ব্যর্থ হন ডি-পল।

কলোম্বিয়ার পক্ষে কোয়াডরো, বোরজা গোল করেন। আর সানজেচ, মিনা এবং কারডোনার শট রুখে দেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক।

 

ম্যাচে অসাধারণ খেলা উপস্থাপন এবং ট্রাইবেকারে তিনটি শট প্রতিরোধ করে ম্যাচ সেরা আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক মার্টিনেজ।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top