ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ৭ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

মেসি ম্যাজিকে আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে

এম. এ রনী | প্রকাশিত: ৪ জুলাই ২০২১ ০৫:৪৬; আপডেট: ৫ জুলাই ২০২১ ১০:৩৪

এবার কোপাতে খেলতে আসা আর্জেন্টিনার সকল খেলোয়াদের একটি চাওয়া ছিল মেসির জন্য কোপা উপহার দেওয়ার। আর আর্জেন্টিনার খেলোয়ারদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে যেন মেসি একাই লড়ে যাচ্ছেন। কোয়ারফাইনালটি ছিল শুধুই মেসিময়। দুই এ্যসিষ্ট এবং এক ফ্রিকিকে অসাধারণ এক গোলে ইকুয়েডরকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে আর্জেন্টিনা সেমিতে তাদের প্রতিপক্ষকে হুংকার করে রাখলো।

 

 

কোপা-২০২০ এর চতুর্থ কোয়ারটার ফাইনালে বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় ব্রাজিলের এস্ট্রাডিও অলিম্পিকো পেড্রো ‍লুডোভিকো স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা এবং  ইকুয়েডর। আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে পরাজিত করে ইকুয়েডরকে বিদায় করে সেমিফাইনালে।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই দুইদলের খেলার মধ্যে ছিল পরিকল্পনাহীন আর অগোছালো খেলার প্রদর্শন। শক্তির প্রদর্শন ছিল ইকুয়েডরে খেলোয়ারদের মধ্যে। পাঁচ হলুদ আর একটি লাল কার্ড দেখাতে হয় রেফারিকে। ম্যাচ ধীরে সামনের দিকে এগুতে থাকলে আর্জেন্টিনা কিছুটা নিজেদের গুছিয়ে খেলতে থাকে। তারপরও কেন জানি পরিকল্পনামাফিক খেলার কোন ছাপ দেখা যাচ্ছিলনা।

 

 

লিওনেল মেসির অসাধারণ পারফরম্যান্সে ইকুয়েডরকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল আর্জেন্টিনা। লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা ৩-০ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে। দলের হয়ে একটি করে গোল করেন রদ্রিগো দে পল, লাওতারো মার্তিনেস ও মেসি। নিজে গোল করার পাশাপাশি অপর দুই গোলেও অবদান রাখেন মেসি।

 

 

আক্রমণাত্মক শুরু করা আর্জেন্টিনা ম্যাচের ১৩তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। মাঝমাঠ থেকে আরবোলেদার ক্রসে লাওতারো মার্তিনেস বল পেয়ে গোলরক্ষককে ছাপিয়ে ডানপ্রান্ত দিয়ে পোস্টের একেবারে কাছে গিয়ে শট করেন। তবে ইকুয়েডরের এক ডিফেন্ডার হেড করে সেভ করেন।

 

 

দুই মিনিট পরেই মেসির নেওয়া কর্নার থেকে পেজ্জেল্লা শট নিলেও জালের খুব কাছে দিয়ে বেরিয়ে যায়। ২১তম মিনিটে লিড নেওয়ার দারুণ এক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা। ইকুয়েডর ফুটবলারের ভুলে আর্জেন্টাইন তারকা বল পেয়ে শট নিলেও তা পোস্টে বাধা পড়ে। অবশ্য দুই মিনিট পরেই অল্পের জন্য গোল হজম করা থেকে বেঁচে যায় লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

 

অবশেষে ৩৯তম মিনিটে এক দলীয় আক্রমণ থেকে গোলের দেখা পায় আলবিসেলেস্তারা। বাঁ প্রান্ত থেকে মেসির  বুদ্ধিদৃপ্ত ক্রসে দুই রক্ষনের মাঝদিয়ে গোল করেন রদ্রিগো দে পল। বিরতির ঠিক আগে অবশ্য গোল বঞ্চিত হয় ইকুয়েডর।

 

 

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ইকুয়েডরের কর্নার কিক থেকে মার্তিনেস আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করেন। আর ৬৫তম মিনিটে তো মারাত্মক এক ক্রস থেকে আত্মঘাতী গোল খেতে বসেছিলেন মেসিরা। ম্যাচে ফিরতে মরিয়া ইকুয়েডর চার মিনিট পর আরও একটি আক্রমণ চালায়। তবে এনার ভ্যালেন্সিয়ার শট জালের অনেক বাইরে দিয়ে চলে যায়।

 

খেলার শেষদিকে ব্যবধান দ্বিগুণ হয় আর্জেন্টিনার। ৮৪তম মিনিটে মেসির দ্বিতীয় এ্যাসিস্টে গোলটি করেন লাওতারে মার্তিনেস। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়ে ১০জনের দলে পরিণত হয় ইকুয়েডর। আনহেল দি মারিয়াকে ফাউল করায় দলটির ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনক্যাপিয়েকে রেফারি লাল কার্ড দেখান। সেখান থেকে রেফারি আর্জেন্টিনার পক্ষে প্রথমে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিলেও পরক্ষনে ভিএআর দেখে ফ্রি-কিকের বাঁশি বাজান।

 

স্পট কিক থেকে নেয়ার মেসির এক অসাধারণ ফ্রি-কিকে ইকুয়েডর গোলরক্ষক পরাস্থ করে গোলে করে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলের ব্যবধানে ম্যাচ জয় করে মাঠ ছাড়ে।

 

দুইটি এ্যাসিষ্ট এবং ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে ম্যাচ সেরা মেসি । 

সেমিতে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ উরুগুয়েকে ট্রাইবেকারে হারানো কলোম্বিয়া। ম্যাচটি ৭জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

 




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top