ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

পাঁচ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাংবাদিকসহ নিহত ১০

সংবাদ প্রতিদিন ডেস্ক | প্রকাশিত: ৬ মার্চ ২০২১ ১৮:৫০; আপডেট: ৯ ডিসেম্বর ২০২১ ০৪:৩৯

দেশের পাঁচ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাসহ, ট্রাকের চাপা এবং অটোরিকশার ধাক্কায় সাংবাদিকসহ এসব যাত্রী ও পথচারী নিহত হন।  নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ, পাবনা ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, জেলার তারাকান্দায় ট্রাক ও সিনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক সংবাদকর্মীসহ দুই জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিন জন। নিহতরা হলেন চন্দন রায় (৫৬) ও আবুল কাশেম (৩২)।

নিহত চন্দন রায় নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য ও দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বাগিচাপাড়া গ্রামের বিশ্বেশ্বর রায়ের ছেলে। অপর নিহত আবুল কাশেম দুর্গাপুরের বংশীপাড়া গ্রামের নোয়াব আলীর ছেলে।

 

শনিবার (৬ মার্চ) বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে তারাকান্দা উপজেলার ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা সড়কের গাছতলা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও চন্দনের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শনিবার সিটি করপোরেশনের শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে 'ময়মনসিংহ বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে সাংবাদিকদের ভূমিকা' শীর্ষক আলোচনা সভায় যোগ দেন চন্দন। পরে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। ট্রাকচাপায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি।

ময়মনসিংহ ফায়ারসার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আতিকুর রহমান বলেন, বিকালে ময়মনসিংহ ব্রিজ মোড় থেকে ছেড়ে আসা সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি গাছতলা বাজারে পৌঁছালে একটি ট্রাক সেটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চন্দন প্রাণ হারান। এ ঘটনায় আহত অপর একজনকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে সংবাদকর্মী চন্দন রায়ের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার কর্মস্থল দূর্গাপুর প্রেসক্লাবসহ উপজেলার সর্বস্থরের সাধারণ মানুষের মধ্যে। সংবাদকর্মীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নান রঞ্জন, সাধারণ সম্পাদক শ্যামলেন্দু পাল, দৈনিক আমাদের সময়ের নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি আজহারুল ইসলাম বিপ্লব, কলমাকান্দা উপজেলা প্রতিনিধি ওবায়দুলসহ অন্যরা।

নরসিংদী  প্রতিনিধি জানান, জেলার মনোহরদীতে মাটি বহনকারী বড় ট্রাকের চাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিনজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ সময় গুরুতর আহত হয়েছেন সিএনজিটির আরও দুইজন যাত্রী। আজ শনিবার ( ৬ মার্চ) দুপুরে ইটাখোলা-মনোহরদী আঞ্চলিক সড়কের কোনাপাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ভাষায় এ ধরনের পরিবহন ‘ড্রামট্রাক’ হিসেবে পরিচিত।

নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি উপজেলার বুড্ডা গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মো. মামুন (৩০), নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার দুলালপুর গ্রামের কামাল উদ্দিনের স্ত্রী আছিয়া বেগম (৬০) ও নরসিংদী শহরের সাটিরপাড়া এলাকার মোসলেম উদ্দিনের স্ত্রী আলেয়া বেগম (৬০)।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার (৬ মার্চ) দুপুরে মাটিভর্তি একটি ড্রামট্রাক মনোহরদী থেকে বেপরোয়া গতিতে চালাকচরের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকটি কোণাপাড়া এলাকায় পৌঁছার পর বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মো. মামুন মারা যান। এসময় অপর চার যাত্রীকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয় লোকজন। সেখানে হাসপাতালটির জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আছিয়া বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে সন্ধ্যার দিকে আলেয়া বেগমও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এই দুর্ঘটনায় আহত অপর দুজন হলেন আলামীন (৪০) ও শহিদুল ইসলাম (৫০)। তাদেরকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনিচুর রহমান জানান, নিহত তিনজনের লাশ ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।  দুর্ঘটনার পরই ড্রামট্রাকটি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে গেছে। এটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল ও নবীনগরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিন জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৬ মার্চ) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে নবীনগর উপজেলার মো. ইয়ামিন (৮) ও মো. আদিব (৯) নামে দুই শিশু নিহত হয়েছে। বেলা ১১টা ও দুপুর ১টায় উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের ধরাভাঙ্গা ও কাইতলা (উত্তর) ইউনিয়নের ব্রাহ্মণহাতা গ্রামে পৃথক এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ইয়ামিন উপজেলার ধরাভাঙ্গা গ্রামের অলিউল্লাহর ছেলে ও আদিব উপজেলার ব্রাহ্মণহাতা গ্রামের মো. শাহআলমের ছেলে। পুলিশ নিহত দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

পুলিশ জানায়, দুপুর ১টার দিকে শিশু ইয়ামিন বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দেয়। এতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ অটোরিকশা ও এর চালককে আটক করেছে।

এদিকে, শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ব্রাহ্মণহাতা গ্রামে ট্রাক্টরের চাপায় আদিব নামে অপর শিশু ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। স্থানীয়রা ট্রাক্টর ও এর চালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।

অপরদিকে,  সকাল ১০ টার দিকে সরাইল উপজেলার কালীগচ্ছের বড্ডা পাড়ায় বালুবাহী ট্রাক্টর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রলির সঙ্গে ধাক্কা লাগে এতে ট্রলিচালক ইমরান নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়। এসময় অপর এক পথচারী শিশু আহত হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ট্রলিচালক ইমরানের মৃত্যু হয়। নিহত ইমরান সরাইল সদর ইউনিয়নের নিজসরাইল গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে। আহত শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রশিদ ও সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) কবীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তারা বলেন, ঘাতক অটোরিকশা, ট্রাক্টরসহ এর চালকদের আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পৃথক দুই থানায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তারা।

পাবনা প্রতিনিধি জানান, পাবনার ঈশ্বরদীতে ইট বোঝাই ট্রলির ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে এক নারী যাত্রী নিহত হয়েছেন। তার নাম সেবা খাতুন (৪৫)। এঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার শিশুকন্যা সুমাইয়া (৬) ও ছেলে মোটরসাইকেল চালক সাব্বির হোসেন (২৫)।  তারা উভয়েই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আজ শনিবার (৬ মার্চ) দুপুরে পাকশী-পাবনা আঞ্চলিক সড়কের সাহাপুর মসজিদ মোড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

ঈশ্বরদী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন সূত্রে জানা যায়,  উপজেলার লক্ষীকুণ্ডা ইউনিয়নের কামালপুর থেকে সাব্বির হোসন তার মোটরসাইকেলে মা ও বোনকে নিয়ে সাহাপুরের নতুনহাটে তার মামাবাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিলেন।  মোটরসাইকেলটি সাহাপুর মসজিদ মোড়ে পৌঁছালে বিপরীত দিক দিয়ে আসা ইট বোঝেই একটি ট্রলির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে তিনজনই মোটরসাইকেল থেকে পাকা সড়কে ছিটকে পড়ে যান। এ সময় মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা সেবা খাতুনের মাথা থেঁতলে ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা গুরুতর আহত অবস্থায় দুইজনকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠান।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান আসাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুরের শ্রীপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল চালক আরাফাত হোসেন (২৫) নিহত হয়েছেন। এসময় বাইকের অপর দুই আরোহী আহত হন। শনিবার (০৬ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলার কাওরাইদ-জৈনা বাজার সড়কের যুগীরছিট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আরাফত ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ী এলাকার বাদশা টেক্সটাইল কারখানায় চাকরি করতেন। তার বাড়ি শেরপুর জেলায়।

ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন জানান, নিহত আরাফাত তার দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে কাওরাইদ যাচ্ছিলেন। কাওরাইদ-জৈনা বাজার সড়কের যুগিরছিট এলাকার ক্রাফটমেন্ট ফুটওয়্যার কারখানার সামনে সড়কে দ্রুতগতিতে মোড় ঘোড়ানোর সময় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি কাঁঠাল গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে তিনজনই গুরুতর আহত হন।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক কে এম নাজমুল আহসান জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় একজনকে মৃত ও অপর দুজনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, নাজশাহীতে ট্রেনে কাটা পড়ে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। রাজশাহী প্রতিনিধি জানান, রাজশাহীতে ট্রেনে কাটাপড়ে সম্রাট হোসেন (৩২) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হরিয়ান স্টেশনের হাজরাপুকুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত সম্রাট কাটাখালী পৌরসভার বাখরাবাজ মোল্লাপাড়ার আবদুল আলীমের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাবা-ছেলে মিলে পোল্ট্রি মুরগির ব্যবসা করেন তারা। সকালে কোন এক বিষয় নিয়ে বাবা-ছেরের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সম্রাট রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসে।

রাজশাহী পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সকালে রাজশাহী থেকে একটি মেইল ট্রেন পাবনার ঈশ্বরদী যাচ্ছিল। সেই ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে সম্রাট নিহত হন। খবর পেয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি জানান, দুর্ঘটনা নাকি আত্মহত্যা সেটি স্পষ্ট করে কেউ বলতে পারছেন না। সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। এবিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top