ঢাকা শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ৪ আষাঢ় ১৪২৮

২০ বছর ধরে এক টাকায় চা বিক্রি করেন দৌলতখানের আলম

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, ভোলা | প্রকাশিত: ১৮ মার্চ ২০২১ ০০:০৮; আপডেট: ১৮ জুন ২০২১ ২০:০০

বঙ্গবন্ধু আমাদের একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন, আমি এই দেশেরই নাগরিক। স্বাধীনতাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে ২০ বছর ধরে প্রতিকাপ চা ‘এক টাকা’ দামে বিক্রি করছি।

 
আমি লাভের জন্য ব্যবসা করি না, বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধরে রাখতে এবং স্বাধীনতার প্রাধান্য দিতে কম দামে চা বিক্রি করছি।

কথাগুলো বলছিলেন ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের চা বিক্রেতা আলম মোর্শেদ (৬৫)। চরপাতা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এ গ্রামটি এখন মুজিবনগর নামে পরিচিত। এখানেই স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন তিনি। তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন তিনি। জমি বলতে কিছুই নেই, যা ছিলো তাও বিক্রি করে দিয়েছেন। এখন সম্বল বলতে শুধু দোকাটাই।

চরপাতা গ্রামে সড়কের পাশেই ছোট্ট একটি চায়ের দোকান আলম মোর্শেদের। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে চা খেতে ছুটে আসেন অনেক মানুষ। মুদি মালামালসহ বিভিন্ন সামগ্রী রয়েছে তার দোকানে। দোকানের সামনেই ক্রেতাদের বসার জন্য রাখা হয়েছে বেঞ্চ। ক্রেতা এলে তাদের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।  
চা বিক্রেতা আলম মোর্শেদ বাংলানিউজকে বলেন, আমি এমন এক নেতার দল করি, যিনি বাংলার স্থপতি, মহান নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই পাকিস্তান আমল থেকেই আমি বঙ্গবন্ধুর দল করি। যতদিন আ.লীগ থাকবে ততদিন এক টাকা দরেই চা বিক্রি করবো। চিনির দাম যদি ১০ হাজার টাকা কেজিও হয়, তবুও এক টাকা ধরেই চা বিক্রি করবেন বলে জানান বঙ্গবন্ধুপ্রেমী মোর্শেদ।

আলম মোর্শেদ আরও জানান, ২০ বছর ধরে চায়ের ব্যবসা করে আসছেন। লাভের আশায় নয়, শেখ মুজিবুর রহমানকে ভালোবেসে এক টাকায় চা বিক্রি করেন তিনি।  

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে গ্রামের নাম দিয়েছি মুজিবনগর। এ জন্য জমি বিক্রি করে অনেক প্রচার-প্রচারণা, লিফলেট ও ব্যানার লাগিয়েছেন তিনি। সরকারের কাছে তার দাবি, এ গ্রামের নাম যেন মুজিবনগর হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। তাহলেই কষ্টগুলো সার্থক হবে।

আলম মোর্শেদের স্ত্রী শিউলী বেগম বলেন, অনেক দারিদ্র্যের সঙ্গে আমরা লড়াই করে আসছি। দোকান থেকে দৈনিক যা রোজগার হয়, তা দিয়ে কিছুই হয় না, দিন দিন আরও দেনা বাড়ছে। পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে আমাদের সংসার। বসত ঘরটাও নিজেদের নয়। তিনি (স্বামী) বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসেন। আমি তাকে (স্বামীকে) নিয়ে গর্ববোধ করি।  
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবুল কালাম আজাদ ও মো. নাঈম নামের দুই তরুণ জানান, মুজিবনগরে এক টাকায় চা পাওয়া যায়, এ কথা শুনেই ছুটে এসেছেন চা পান করতে। এক টাকায় চা পাওয়া যায়, এটা বিশ্বাস হচ্ছিলো না। এখানে এসে নিশ্চিত হলাম।

চরপাতা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. হেলাল জানান, আলম মোর্শেদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এক টাকা দরে চা বিক্রি করছেন। তিনি চারপাতা গ্রামটির নাম পাল্টে মুজিবনগর রেখেছেন। তার মতো এমন একজন মানুষের এ ইউনিয়নে বসবাস, এটা জেনে আমরা গর্ববোধ করছি। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাকে আমরা আমাদের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুলের কাছে নিয়ে গেলে তিনি তাকে নগদ অর্থ সহযোগিতা করেন। আলম মোর্শেদকে বয়স্কভাতা কার্ডসহ সবধরনের সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত আছে ইউনিয়ন পরিষদ।




আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


এই বিভাগের জনপ্রিয় খবর
Top