মিয়ানমারের বিরুদ্ধে খসড়া প্রস্তুত জাতিসংঘের
প্রচ্ছদ » বিদেশ » মিয়ানমারের বিরুদ্ধে খসড়া প্রস্তুত জাতিসংঘের


শুক্রবার ● ২৭ অক্টোবর ২০১৭

---
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কয়েকটি প্রস্তাবের খসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে জাতিসংঘ। মিয়নামারের উপর চাপ বাড়াতে এই খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ।

প্রস্তাবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার মতো শক্ত কোনো পদক্ষেপের কথা বলা হয়নি। তবে রাখাইন প্রদেশে অবিলম্বে সেনা অভিযান বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তনে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

খসড়া প্রস্তাবটিতে আরাকান স্যালভেশন আর্মি বা আরসার সহিংস কর্মকাণ্ডের নিন্দাও জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদের প্রভাবশালী দুই সদস্য যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স খসড়া প্রস্তাবটি তৈরি করেছে। ছয় পৃষ্ঠার খসড়ায় মিয়ানমারের প্রতি কোনো ধরনের অবরোধ অথবা নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

তবে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে দেশটির সরকারের প্রতি বেশ কিছু স্পষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিষদের এক কূটনীতিক বলেছেন, চীনের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও উদ্ভূত রোহিঙ্গা সঙ্কটে এই খসড়া প্রস্তাবই হবে জাতিসঙ্ঘের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দেয়া প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া। তারপরও এ বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যাপারে তারা আশাবাদী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা পরিষদের এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, চীনের বাধার মুখে পড়ে ওই খসড়া প্রস্তাব। ওই কূটনীতিক জানিয়েছেন, ‘চীন যথার্থ অবস্থানে নেই’। ‘তারা চায় আমরা এই বিষয়ে কিছুই না বলি।’ কূটনীতিকেরা জানিয়েছেন, চীন নিজেও চায় মিয়ানমার রোহিঙ্গা সঙ্কটকে আমলে নিক। তারা সহিংসতার অবসানও চায়। তবে এই প্রসঙ্গে মিয়ানমারের সাথে তারা দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পক্ষে।

১৩ অক্টোবর নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে তিনটি বিষয়ে ঐকমত্য হলেও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো প্রস্তাব আনার ব্যাপারে ইতিবাচক আলোচনা হয়নি। কূটনৈতিক সূত্রকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সে সময় জানায়, ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন চীন আর রাশিয়ার বিরোধিতার কারণে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা সঙ্কট নিরসনে কোনো প্রস্তাব আনার ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়।

আগেও দুই দফায় চীন-রাশিয়ার বিরোধিতার কারণে মিয়ানমারবিরোধী প্রস্তাব আনতে ব্যর্থ হয় নিরাপত্তা পরিষদ। কয়েক দিন আগে জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব ও আনান কমিশনের প্রধান কফি আনান পৃথিবীর সবচেয়ে বিপন্ন জনগোষ্ঠীর ওই উদ্বাস্তুদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা পরিষদকে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানান।

চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তার নেতৃত্বাধীন কমিশন রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে সদস্য দেশগুলোর কাছে এমন একটি প্রস্তাব আনার আহ্বান জানান, যা মিয়ানমারের সরকারকে সত্যিকার অর্থেই মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার পরিবেশ সৃষ্টির পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে।

রাখাইনে বাস করা ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের ১৯৮২ সাল থেকে নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে মিয়ানমার। ফলে তারা সবাই রাষ্ট্রপরিচয়হীন অবস্থায় বসবাস করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদকে শক্ত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

জাতিসঙ্ঘের বিশেষ দূত ইয়াং লি বলেছেন, সহিংসতাপূর্ণ অঞ্চলের হুমকি মোকাবেলায় নিরাপত্তা পরিষদকে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, রাখাইনে এই সঙ্কট যুগ যুগ ধরে শুধু চলেই আসছে না, বরং সীমানা পেরিয়েও এর প্রভাব বিস্তার করছে। অনেক দিন ধরে চলে আসা এই সঙ্কট এখন আর স্থানীয় পর্যায়ে নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এই খসড়া প্রস্তাবে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশ চীন ভেটো দিতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিষদের কোনো সদস্য রাষ্ট্র কোনো বিষয়ে ভেটো প্রদান করলে তা আর কার্যকর হয় না। সূত্র: এএফপি ও এপি।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:২৭:৫৭ ● ২৩৭ বার পঠিত



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আরো পড়ুন...