বিশ্রামে সাকিব, চাইলে দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারবেন
প্রচ্ছদ » ক্রিকেট » বিশ্রামে সাকিব, চাইলে দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারবেন


সোমবার ● ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭

---
ক্রীড়া প্রতিবেদক : এক বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসন কাটিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে আবারও সাদা পোশাক পড়ে মাঠে নামতে যাচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম সেরা ক্রিকেটার এবি ডি ভিলিয়ার্স। প্রেটিয়া সমর্থকদের জন্য এটি খুশির খবরই বটে। তবে টাইগার সমর্থকদের হতাশার খবর হলো এই সিরিজে সাকিব আল হাসানকে পাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারের ইচ্ছাতেই তাকে বিশ্রাম দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

দেশের হয়ে সিরিজ খেলার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগে নিয়মিত খেলে থাকেন দেশের অন্যতম সেরা তারকা সাকিব আল হাসান। এক দশক ধরে  আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে সেরা পারফর্মেন্স দিয়ে আসছেন তিনি। টানা ক্রিকেট খেলার কারণে খানিটা ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত তিনি। তাই সেরা ফর্মে থাকা সত্বেও ছয় মাসের ছুটি চেয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী কাছে চিঠি দিয়েছেন এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।

সাকিবের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তাকে বিশ্রাম দিচ্ছে বিসিবি। তবে তিনি চাইলে তাঁর সিদ্ধান্ত বদলাতে পারবেন, সে দুয়ারও খোলা রাখছে বিসিবি। এ বিষয়ে বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান জানান, সাকিবের জন্য একটা বিকল্প উপায় ভেবে রেখেছেন তাঁরা। সাকিব চাইলে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে পাবেন।

সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আকরাম বলেন, ‘সাকিবের বিশ্রাম চাওয়া নিয়ে আমরা অনেক আলাপ-আলোচনা করেছি। আপাতত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম ও দ্বিতীয় টেস্টে ওকে রাখছি না। তবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ও যদি খেলতে চায় আমরা তাকে নেব। যদি সে চিন্তাভাবনা বদলায় সে কারণে একটা বিকল্প উপায় আমরা রেখেছি। তবে সে আপাতত টেস্ট দলের সঙ্গে যাচ্ছে না। ওর যদি ইচ্ছে হয় দ্বিতীয় টেস্টে খেলবে।’

সাকিব বাংলাদেশ দলের গুরুত্বপুর্ন খেলোয়াড়। তারপরও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিপক্ষে সিরিজের তাঁকে বিশ্রাম দেয়ার সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছে বিসিবি, এমন প্রশ্নে আকরাম বলেন, ‘সে আমাদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। একই সঙ্গে ওর অবস্থাও দেখতে হবে। সে মানসিক-শারীরিকভাবে কী অবস্থায় আছে সেটা আমাদের দেখতে হবে। আমরা চাই না বাংলাদেশ দল ক্ষতিগ্রস্ত হোক বা মাশরাফির মতো সে চোটে পড়ুক।’

বর্তমান সূচি অনুযায়ী সাকিবের ছয় মাসের ছুটির মধ্যে বাংলাদেশ দলের খেলার কথা মোট চারটি টেস্ট। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে খেলবে দুটি টেস্ট। আর ডিসেম্বরে শ্রীলংকা দলের বাংলাদেশ সফরে রয়েছে দুটি টেস্ট। এছাড়া আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বাংলাদেশ দলের যাওয়ার কথা থাকলেও সেটা জুলাইয়ে পিছিয়ে যাওয়া একরকম নিশ্চিত। তবে ঘরের মাঠে ডিসেম্বরে ফিরবেন সাদা পোশাকে এমনটাই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সাকিবের অভিষেকের পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এর আগে আর একবারই গিয়েছে বাংলাদেশ। ২০০৮ সালে সে সফর থেকে বেশ কিছু ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে ফিরেছিলেন সাকিব। দুই টেস্টে পরপর দুই ইনিংসে নিয়েছিলেন ৫ ও ৬ উইকেট। শেন ওয়ার্ন ও অনিল কুম্বলের মতো স্পিনারেরও দক্ষিণ আফ্রিকায় টানা দুই ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার এই কীর্তি নেই। মুত্তিয়া মুরালিধরনের আছে মাত্র একবার। এর আগে ২০০২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যায় বাংলাদেশ যে সিরিজের দুটি টেস্টই ইনিংস ব্যবধানে হেরে ধবলধোলাই হয়ে দেশে ফেরে টাইগাররা।

প্রসঙ্গত, বছরজুড়ে জাতীয় দলের পাশাপাশি বিভিন্ন টি-টয়েন্টি লিগ গুলোর জন্য চাহিদা থাকে সাকিবের। খেলার জন্য সবচেয়ে বেশি ঘুরে বেড়ানো বাংলাদেশি ক্রিকেটারও খুব সম্ভবত সাকিব আল হাসান। বিভিন্ন লিগে হোম এন্ড এওয়ে ভিত্তিতে খেলার ভ্রমণক্লান্তি ত সাকিবের সঙ্গীই। সাকিব আল হাসান এর ক্লান্ত হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫০:১২ ● ১৪৩ বার পঠিত



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আরো পড়ুন...