ট্রফিটা একার করে নিতে পারল না টাইগাররা
প্রচ্ছদ » ক্রিকেট » ট্রফিটা একার করে নিতে পারল না টাইগাররা


বৃহস্পতিবার ● ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

---
ক্রীড়া প্রতিবেদক: প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জেতার সুযোগটা হাতের নাগালে আসলেও শেষ পর্যন্ত ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সিরিজের প্রথম টেস্ট বাংলাদেশ জিতলেও দ্বিতীয় সহজেই জিতে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল।

বাংলাদেশের দেওয়া ৮৬ রানের সহজ টার্গেট ৭ উইকেট হাতে রেখেই জিতে যায় অস্ট্রেলিয়া। এর আগে দ্বিতীয়  ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া স্পিনার নাথান লায়নের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৫৭ রানেই অল-আউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন মুশফিকুর রহিম।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৩০৫ রানের জবাবে ৩৭৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া। ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ থেকে ৭২ রান এগিয়ে থাকে অস্ট্রেলিয়া। ৭২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে নাথান লায়ন ও প্যাট কামিন্সের বোলিং তোপে ১৫৭ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে অজিদের সামনে ৮৬ রানের সহজতম লক্ষ্য দাঁড়ায়। সেই লক্ষ্য পেরুতে কোনো সমস্যাই হয়নি স্মিথের দলের।

৮৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। ৪৮ রানের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ান তিন শীর্ষ ব্যাটসম্যানকের সাজঘরে পাঠান মোস্তাফিজ, সাকিব, তাইজুলরা।
ইনিংসের পঞ্চম এবং মোস্তাফিজের ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে বাউন্সারে নাকাল হয়ে শেষ সময় হুক করেন ওয়ার্নার। বল ডিপ মিডউইকেটে সৌম্য সরকারের হাতে জমা পড়লে উদযাপনে মেতে ওঠে বাংলাদেশ।

শুরুতেই উইকেট হারালেও সহজাত খেলাই চালিয়ে যান রেনশ ও স্মিথ। তাইজুল এসে জুটি ভাঙেন। তার করা দশম ওভারের প্রথম বলে স্মিথের ব্যাট ছুঁয়ে মুশফিকের গ্লাভসে জমা পড়ে। সাকিবের করা পরের ওভারে মুশফিকের হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রেনশ। শেষ পর্যন্ত গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও পিটার হ্যান্ডসকম্বের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অজিরা। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ২৫ এবং পিটার হ্যান্ডসকম্ব ১৬ রানের অপরাজিত থেকে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে একটি করে উইকেট নেন মোস্তাফিজ, তাইজুল ও সাকিব। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ওয়ার্নারকে আউট করেন মোস্তাফিজ।

চট্টগ্রাম টেস্টে জিততে পারলে কিংবা ড্র করতে পারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বরে ওঠে আসতে পারতো বাংলাদেশ। তবে বাজে ফিল্ডিং ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ে সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায় টাইগারদের।

মিরপুর টেস্টে পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে আকাশে উড়ছিল বাংলাদেশ দল। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে গিয়ে ‘নায়ক’ সাকিব আল হাসানের মাথায় হাত বুলিয়ে এসেছেন। গণভবনে ঈদের দিন নায়ককে নিজ হাতে খাইয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যে ছবিটা ভাইরাল হয়ে গেছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। একটা অন্যরকম সুখানুভূতি ছড়িয়েছিল বাংলাদেশ দলে। গোটা দেশই শুভকামনা জানাচ্ছিল। ক্রিকেট দুনিয়া থেকেও উড়ে আসছিল প্রশংসা বাণী।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ যে খারাপ করেছে সেটি বলা যাচ্ছে না। তবে রানটা আরেকটু বাড়তেই পারত। তারপরও যেটা হয়েছে সেটিও তো খারাপ ছিল না। ৩০৫ রান করেও অস্ট্রেলিয়াকে যে প্রথম ইনিংসে বেধে রাখা গেল না আসলে মিরপুরের নায়কের ব্যর্থতার কারণে।সাকিব যে উইকেটই পেলেন না!

অস্ট্রেলিয়া এই সুযোগটাই কাজে লাগাল। আগের টেস্টে সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া ডেভিড ওয়ার্নার চট্টগ্রামেও সেঞ্চুরি তুলে নিলেন।পাশাপাশি স্মিথ-হ্যান্ডসকম্বের ফিফটিতে বাংলাদেশের রানটাও তারা টপকে গেছে। ৩৭৭ করে ৭২ রানের লিডটাই বাংলাদেশের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে গেছে। দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে নেমে টপাটপ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় বাংলাদেশ।

তামিম ইকবাল-সৌম্য সরকারকে স্বস্তিতে ব্যাট করতে দেখা যায়নি। তামিম অহেতুক ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে গেলেন। সৌম্য আগের ইনিংসে পাওয়া আত্মবিশ্বাসটা কাজে লাগাতে পারেননি। আর ইমরুল কায়েস দুই টেস্টেই ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করেছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে কি ধরণের শট খেললেন সেটি তিনিই ভালো বলতে পারবেন। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল একটু সরিয়ে সেটি তালুবন্দি করলেন। সাকিব এই টেস্টে যেন রাজা থেকে ফকির! ব্যাট কি বল ঠিকঠাক হচ্ছে না কোনকিছুই। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ভরসা দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু নিজের ইনিংসটাকে বড় করতে পারেননি। ১০৩ বল খেলে করেছেন ৩১ রান।

থাকার চেষ্টা করেছিলেন সাব্বিরও।কিন্তু লায়নের বলে তাকে স্ট্যাম্পড হতে হয়েছে। তাঁর আগে ৫৯ বলে ২৪ রান করেছেন। অবশ্য এদিন চারে নামানো হয়েছিল আগের ইনিংস কিছুটা সফল নাসিরকে। তিনিও ব্যর্থ হয়েছেন। আটে নামা মুমিনুল যথারীতি চেষ্টা করেছেন; কিন্তু তাঁর প্রতিরোধ টিকেছে ৬১ বল অবধি। মুমিনুল ব্যক্তিগত ৩১ রানে কামিন্সের বলে আউট হলে ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ১৫৭ রান সংগ্রহ করলে অজিদের টার্গেট দাঁড়ায় ৮৬।

বাংলাদেশ যদি প্রথম ইনিংসে কিছু রান লিড নিতে পারত তাহলে বলাই যায় এই টেস্টেও অন্যরকম কিছু  ঘটতে পারত। কিন্তু ৩০৫ রান করেও আলগা বোলিংয়ের ফায়দা নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। যার মাশুল গুণতে হচ্ছে মুশফিকদের। সিরিজ শেষে আফসোস থেকে যাবে যে, বাগে পেয়েও অস্ট্রেলিয়াকে হারানো হলো না।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩৯:১১ ● ১০০ বার পঠিত



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আরো পড়ুন...