টার্গেট কোরবানি: পণ্যের দাম বাড়াতে সিন্ডিকেট
প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » টার্গেট কোরবানি: পণ্যের দাম বাড়াতে সিন্ডিকেট


শনিবার ● ২৬ আগস্ট ২০১৭

---

নিজস্ব প্রতিবেদক : সামনে কোরবানি। বসে নেই অসাধু ব্যবসায়ী চক্র। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাড়ানো হচ্ছে পণ্যের দাম। সময়, চাহিদা ও সুযোগ বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ কোনো পণ্যকে টার্গেট করে লুটে নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত মুনাফা। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে উৎসবের এক থেকে দেড় মাস আগেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন।

পেঁয়াজ, রসুন, মসলার দাম আবার সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বেড়েছে তিন গুণ। আমদানি বাড়ালেও কিছু হচ্ছে না। রসুন, তেল, মসলাসহ শাকসবজির দামও আকাশছোঁয়া। কমছে না ঊর্ধ্বমুখী চালের দাম। ঈদের আগে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারের মনিটরিংয়ের অভাবকে দায়ী করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশে খাদ্যমূল্য সবার নাগালে থাকবে। কিন্তু বাজারে নৈরাজ্যের কারণে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও দিন দিন দ্রব্যমূল্য নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এর জন্য দায়ী সরকারের উদাসীনতা। কর্তৃপক্ষ যদি নিয়মিত বাজার মরিটরিং করত তাহলে সিন্ডিকেট সদস্যরা সক্রিয় হতে পারতেন না।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাজারে কোনো পণ্যের দামই ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভোক্তা স্বার্থরক্ষায় তৎপর। বাজারদরও স্থিতিশীল।

সামনে কোরবানির ঈদে বাজার স্থিতিশীল থাকবে উল্লেখ করে কয়েক দিন আগে বাণিজ্যমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসব কথা বলেন।

ডাল, গম, ভোজ্য তেল, পেঁয়াজ, আদা, রসুন ছোলা ও গমের ওপর বিদ্যমান শূন্য শতাংশ শুল্কহার অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু শূন্য শতাংশ শুল্কহারের এই সুবিধার আওতায় ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও বরাবর ভোক্তাদের বেশি দাম দিয়েই পণ্য কিনতে হচ্ছে। এক মাসের ব্যবধানে ২৬ টাকার পেঁয়াজ এখন কিনতে হচ্ছে ৬৫ টাকায়। বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলে কোরবানি ঈদে পেঁয়াজের দাম কোথায় গিয়ে ঠেকবে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। শুধু পেঁয়াজ নয়, আদা, রসুন ও গরম মসলার দামও বেড়েছে। আর শাকসবজির বাজারও অস্থির হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কাঁচামরিচ কেজিতে ১০০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।

এক মাসে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০০ শতাংশ : এক মাসের ব্যবধানে এর দাম প্রায় ৩০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত মাসে পেঁয়াজ ২৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও গতকাল ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। গত এক মাসের মধ্যে চার দফায় ৪১ টাকা বেড়েছে এই পণ্যের দাম। বৃষ্টির কারণে পচে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত মজুদ না থাকায় পেঁয়াজের দাম বাড়ছে বলে জানান বিক্রেতারা। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মো. রুহুল আমিন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে আড়তে সংরক্ষণ করা পেঁয়াজ, রসুন ও আলুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া উৎপাদন পর্যায়ের কৃষক মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়েছে।

চালের বাজার : অতিবৃষ্টি, বন্যা, সংকট, সরবরাহে ঘাটতি, মজুদ কমে যাওয়া ও মিলারদের কারসাজিতে সারা দেশে চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা। চালের দামের এ ঊর্ধ্বগতি থামাতে আমদানি শুল্ক কমানো ও আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরই মধ্যে চাল আমদানি শুরু করে সরকার। এর ফলে পাইকারি বাজারে চালের দাম কেজিতে কমেছে মাত্র ৫০ পয়সা থেকে এক টাকা। অবশ্য খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। এরই মধ্যে চালের দাম আবার বেড়েছে। বর্তমানে সারা দেশে মোটা চাল কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৫০ টাকায়।

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিলমালিক সমিতি বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি এ টি এম আমিনুল ইসলাম বলেন, পাইকারি বাজারে চালের দাম কিছুটা কমেছে। তবে খুচরা বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, আমাদের জানা নেই। তবে সম্প্রতি যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে চালের দাম আবার বাড়তে পারে বলে তিনি আভাস দেন।

বেড়েছে মসলার দাম : মসলা ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে মসলাজাতীয় পণ্য বেশি আমদানি করা হয়। কোরবানি ঈদে মসলাজাতীয় দ্রব্যের বাড়তি চাহিদা থাকে। প্রতি বছর কোরবানির আগে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা মসলার বাজার নিয়ে কারসাজি করেন।

কারওয়ান বাজারের মসলা ব্যবসায়ী হেদায়েত উদ্দিন বলেন, ঈদের আগে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে এলাচির দাম। এক মাস ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৩০০ টাকা বেড়েছে। এখন এলাচি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে এক হাজার ৯০০ টাকা কেজি। লবঙ্গের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে কেজি ১৬০০ টাকায়। এ ছাড়া প্রায় প্রতিটি মসলার দামই ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০, দারুচিনি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা ও তেজপাতা ১৫০ থেকে ১৮০, সাদা গোলমরিচ এক হাজার এবং কালো গোলমরিচ ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

তেলের দাম বাড়তির দিকে : গতকাল ব্র্যান্ডভেদে পাঁচ লিটারের বোতল ১০ টাকা বেড়ে ৫৩০-৫৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর প্রতি লিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭-১০৯ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

আদার দাম বেড়েছে ৪০ টাকা : চীনা আদা পাইকারিতে কেজিপ্রতি ৯০-১০০, সেটি খুচরায় ১৩০-১৫০ পর্যন্ত। পাইকারি বাজারে বার্মিজ আদা ৪৫-৫০, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ৮০ টাকা।

সবজির দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০ টাকা : রাজধানীর কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সস্তার সবজি হিসেবে পরিচিত আলু রাজধানীর বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজিই পাওয়া যায় না। বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০, করলা ৭০, পটোল ৬০, ঝিঙ্গা, ৬৫, ঢেঁড়স ৬০, টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়।

বাংলাদেশ সময়: ১০:২৬:০০ ● ১৪৬ বার পঠিত



পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আরো পড়ুন...